ঢাকা, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আর্সেনালকে কাঁদিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ইউরোপ সেরা পিএসজি!

২০২৬ মে ৩১ ১০:০৭:৪০

আর্সেনালকে কাঁদিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ইউরোপ সেরা পিএসজি!

স্পোর্টস ডেস্ক: গত আসরেই ইন্টার মিলানকে বিধ্বস্ত করে ক্লাব ইতিহাসের প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বাদ পেয়েছিল প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। এবার ইউরোপসেরার মুকুট ধরে রাখার মিশনে অদম্য আর্সেনালের জমাট রক্ষণ ভাঙতে রীতিমতো ঘাম ঝরাতে হলো ফরাসি জায়ান্টদের। ফাইনালে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয়ার্ধের গোলে সমতায় ফেরে তারা। এরপর নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা সমতায় শেষ হলে ম্যাচ গড়ায় ভাগ্যনির্ধারণী টাইব্রেকারে। সেখানে গানার্সদের ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোপের সিংহাসন নিজেদের করে নিল পিএসজি। অন্যদিকে, ক্লাব ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠেও ট্রফি ছোঁয়ার স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় পুড়তে হলো আর্সেনালকে।

টাইব্রেকারের স্নায়ুচাপের লড়াইয়ে পিএসজির হয়ে গন্সালো রামোস এবং আর্সেনালের গিওকেরেস নিজেদের প্রথম শটেই লক্ষ্যভেদ করেন। দ্বিতীয় শটে পিএসজি সফল হলেও আর্সেনালের এবেরেচি এজে বল পোস্টের বাইরে মেরে দলকে চরম হতাশায় ডোবান। অবশ্য পিএসজির মেন্দেসের শট রুখে দিয়ে ডেভিড রায়া গানার্সদের ম্যাচে ফিরিয়েছিলেন। এরপর ডেকলান রাইস সফলভাবে জাল কাঁপান। পিএসজির আশরাফ হাকিমি ও আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলিও পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল করেননি। ফরাসি চ্যাম্পিয়নদের হয়ে চতুর্থ শটে গোল করেন লুকাস বেরালদি। তবে আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারতেই শিরোপা ধরে রাখার বন্য উল্লাসে মাতে পিএসজি।

দীর্ঘ ২২ বছরের খরা কাটিয়ে এবারই ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতেছে আর্সেনাল। কিন্তু ২০০৬ সালের পর প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠেও ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরার অপেক্ষাটা তাদের জন্য আরও দীর্ঘায়িত হলো।

ঠিক ২০ বছর আগে বার্সেলোনার বিপক্ষে খেলা সেই ঐতিহাসিক ফাইনালের মতোই, এবারও ম্যাচের শুরুতেই লিড নিয়েছিল আর্সেনাল। পিএসজি অধিনায়ক মার্কিনহোসের একটি বল ক্লিয়ার করার চেষ্টা আর্সেনাল উইঙ্গার লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের গায়ে লেগে প্রতিহত হয়ে কাই হাভার্টজের পায়ে চলে আসে। মাঝমাঠের কাছাকাছি থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে একা দৌড়ে বক্সে ঢোকেন এই জার্মান ফরোয়ার্ড এবং একটি কঠিন কোণ থেকে জোরালো শটে বল জালের ছাদে জড়ান।

দুই দশক আগের সেই ফাইনালের চিত্রনাট্যের মতোই এবারও দ্বিতীয়ার্ধে গোল হজম করে ব্যাকফুটে চলে যায় আর্সেনাল। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের আটকে রাখার পর অবশেষে গানার্সদের রক্ষণদুর্গ ভেঙে পড়ে। পেনাল্টি বক্সের ভেতর পিএসজির খভিচা কভারাতসখেলিয়াকে ফাউল করে বসেন ক্রিসথিয়ান মস্কেরা।

তাতে ভিএআর (VAR) পরীক্ষা ও বেশ কিছু সময় নষ্ট হওয়ার পর পেনাল্টি পায় পিএসজি। স্পট কিক থেকে উসমান দেম্বেলে আর্সেনাল গোলরক্ষক ডেভিড রায়াকে উল্টো দিকে পাঠিয়ে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়ালে ম্যাচে সমতা ফেরে।

১৯৯২ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নতুন নামকরণের পর ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে টানা তিনবার শিরোপা জিতেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। লস ব্লাঙ্কোসদের সেই কীর্তির পর পিএসজিই প্রথম দল হিসেবে সফলভাবে নিজেদের ইউরোপীয় ট্রফি ধরে রাখতে সক্ষম হলো।

মাদ্রিদ তাদের টানা তিনটি শিরোপার প্রথমটি জেতার পথে ১০ বছর আগে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী আতলেতিকো মাদ্রিদকে টাইব্রেকারে হারিয়েছিল। ঐতিহাসিক সেই ফাইনালের পর এই প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোনো মেগা ফাইনাল পেনাল্টি শুটআউটে গড়াল।

সব মিলিয়ে, ১৯৫৫ সাল থেকে শুরু হওয়া ইউরোপীয় কাপের সামগ্রিক ইতিহাসে পিএসজি ১০ম ক্লাব হিসেবে টানা দুটি শিরোপা জেতার অনন্য কীর্তি ও আভিজাত্যের তালিকায় নিজেদের নাম লেখাল।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত