ঢাকা, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২

সদরঘাটে লঞ্চ দুর্ঘটনা: নিখোঁজ মিরাজের মরদেহ ৪৯ ঘণ্টা পর উদ্ধার

২০২৬ মার্চ ২০ ২১:৫৫:৫১

সদরঘাটে লঞ্চ দুর্ঘটনা: নিখোঁজ মিরাজের মরদেহ ৪৯ ঘণ্টা পর উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর সদরঘাটে দুই লঞ্চের ভয়াবহ ধাক্কায় বুড়িগঙ্গা নদীতে তলিয়ে যাওয়ার দীর্ঘ ৪৯ ঘণ্টা পর নিখোঁজ মিরাজ ফকিরের মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ।

শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে কেরানীগঞ্জের লবণ মিল সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নৌ-পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল-মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বরিশুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল নদীতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে নিহতের স্বজনরা মিরাজ ফকিরের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিডফোর্ড) হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

গত বুধবারের এই মর্মান্তিক ঘটনায় মিরাজ ফকিরের ছেলে সোহেল ফকির (২২) ঘটনাস্থলেই মারা যান। এছাড়া সোহেলের স্ত্রী রুবা ফকির (২০) গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে মিডফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে সপরিবারে বরিশাল যাওয়ার পথে এই দুর্ঘটনা পুরো পরিবারটিকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে।

নৌ-পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় মিরাজ ফকিরের বড় ভাই সিরাজ ফকির বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার প্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে ইতোমধ্যে দুই লঞ্চের চালক ও স্টাফসহ ৫ জন এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সদরঘাটে ঢাকা-ইলিশা রুটের ‘আসা যাওয়া-৫’ লঞ্চে ট্রলার দিয়ে যাত্রী তোলা হচ্ছিল। এ সময় পেছন থেকে ‘এমভি জাকির সম্রাট-৩’ নামের আরেকটি লঞ্চ সজোরে ধাক্কা দেয়। দুই লঞ্চের মাঝখানে চাপা পড়ে এবং ঘষাঘষিতে নদীতে পড়ে গিয়ে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। রুবা ফকিরকে স্থানীয়রা উদ্ধার করতে পারলেও মিরাজ ও সোহেল তলিয়ে গিয়েছিলেন। পরে সোহেলের মরদেহ আগে পাওয়া গেলেও মিরাজের মরদেহ উদ্ধার করতে সময় লাগে ৪৯ ঘণ্টা।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ