ঢাকা, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন? জানাল সুপ্রিম কোর্ট

২০২৬ মার্চ ১৫ ১৬:২৫:৫৮

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন? জানাল সুপ্রিম কোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের নির্বাচনকালীন রাজনীতিতে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সর্বোচ্চ আদালতের এই রায় অনুযায়ী, 'সবশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হবেন বলে উল্লেখ করা হয়।' রোববার (১৫ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৭৪ পৃষ্ঠার এই দীর্ঘ ও ঐতিহাসিক রায়টি সর্বসাধারণের জন্য অবমুক্ত করা হয়েছে।

এই গুরুত্বপূর্ণ রায়টি লিখেছেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। মূলত গত ২০ নভেম্বর সর্বোচ্চ আদালত এক আদেশের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন, যার বিস্তারিত বিশ্লেষণ আজ জনসমক্ষে এল। সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৭ বিচারকের পূর্ণাঙ্গ আপিল বিভাগ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

রায়ের কার্যকারিতা সম্পর্কে বলা হয়েছে, এ ব্যবস্থার বিধান পুনরুজ্জীবিত হলেও এখনই তা সরাসরি প্রয়োগ হচ্ছে না। তবে পূর্ণাঙ্গ রায়ে আপিল বিভাগ বলেন, 'চতুর্দশ নির্বাচন থেকেই এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে।' আইনজীবীদের মতে, দেশের আগামী সংসদ নির্বাচনে এই পদ্ধতি সরাসরি প্রয়োগ হবে। তবে রায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ রাখা হয়েছে; তা হলো, 'বর্তমান সংসদ চাইলে এ ব্যবস্থার সংযোজন কিংবা বিয়োজন করতে পারবে বলে জানায় আইনজীবীরা।'

প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৯৬ সালে বিএনপির শাসনামলে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এই ব্যবস্থা প্রথম চালু হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আপিল বিভাগের রায়ের দোহাই দিয়ে এই পদ্ধতি বিলোপ করা হয়। তবে ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটে। ২০১১ সালের সেই রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদনের পর সর্বোচ্চ আদালত রায়টি অবৈধ ঘোষণা করে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনরায় ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত দেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত