ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২

এবার লাগাতার কর্মবিরতির ঘোষণা দিল চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ১৭:২৩:০৫

এবার লাগাতার কর্মবিরতির ঘোষণা দিল চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র অচলাবস্থার দিকে যাচ্ছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর। ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে বুধবার সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য লাগাতার কর্মবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বন্দর সংশ্লিষ্ট শ্রমিক-কর্মচারী সংগঠনের নেতারা।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় আয়োজিত অবরোধ কর্মসূচি থেকে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খোকন।

ঘোষণাকালে তিনি অভিযোগ করে বলেন, নৌ-উপদেষ্টার দপ্তর থেকে শ্রমিক নেতাদের নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আন্দোলনে যুক্ত কর্মীদের বদলি করা হচ্ছে এবং মোবাইল কোর্টের ভয় দেখানো হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বুধবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চলবে।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে শ্রমিক-কর্মচারীরা ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন শুরু করেন। এর ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়, যা দেশের সামগ্রিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।

আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— এনসিটির জেটি বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা না দেওয়া, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ এবং আন্দোলনকে কেন্দ্র করে জারি করা সব বদলির আদেশ বাতিল।

বর্তমানে এনসিটি ছাড়াও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও জেনারেল কার্গো বার্থসহ বন্দরের সব টার্মিনালেই অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। স্কপের যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল জানান, কনটেইনার ও সাধারণ পণ্য ওঠানামা পুরোপুরি বন্ধ থাকায় বন্দরের সামগ্রিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

এদিকে আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে সকালে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ। মিছিলটি বন্দর অভিমুখে অগ্রসর হলে পুলিশ বাধা দেয়। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির অভিযোগ করেন, সংকট সমাধানে উদ্যোগ না নিয়ে কর্তৃপক্ষ দমন-পীড়ন ও বদলির মাধ্যমে শ্রমিকদের ভয় দেখাচ্ছে।

চার দিন ধরে জেটিতে জাহাজ আটকে থাকা এবং পণ্য পরিবহণ বন্ধ থাকায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিজিএমইএর সহসভাপতি সেলিমুর রহমান বলেন, বন্দরের অচলাবস্থায় আমদানি ব্যয় বাড়ছে এবং পোশাক খাতের রপ্তানি শিডিউল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন