ঢাকা, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২
গুম নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল ব্রিগেডিয়ার আযমী
নিজস্ব প্রতিবেদক: ট্রাইব্যুনালে গুম-নির্যাতন মামলায় ভুক্তভোগী সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী জানিয়েছেন, অপহরণের সময় তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তাকে চেনেন। এই কর্মকর্তার নাম লেফটেন্যান্ট কর্নেল মখছুরুল হক। আযমী তার জবানবন্দিতে বলেন, ওই সময় তার চোখে সামান্য আলো পড়ার কারণে তিনি মখছুরুল হককে চিনতে পেরেছিলেন।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে আযমীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। তিনি এই মামলার তৃতীয় সাক্ষী।
আযমী তার জবানবন্দিতে জানান, ২০১৬ সালের ২২ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে বড় মগবাজারে তার বাসার সামনে সাদা পোশাকে ৫০-৬০ জনের একটি দল আসে। তারা তার বাসায় প্রবেশ করে, কোনো পরিচয়পত্র বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখানো ছাড়াই হাতকড়া পরাতে বলে। পরিস্থিতি দেখে তিনি বুঝতে পারেন, তাদের উদ্দেশ্য শারীরিক হেনস্থা। নিরাপত্তাহীনতায় তিনি বাধ্য হয়ে হাত এগিয়ে দেন।
তিনি আরও বলেন, প্রথমে হাতকড়া পরে, এরপর চোখ বাঁধা হয় এবং তাকে লিফটে করে নীচে নামিয়ে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়া হয়। গাড়িতে তাকে জমটুপি পরানো হয়। তবে চোখের বাঁধন সামান্য নেমে যাওয়ায় বাইরের আলো দেখতে পেয়ে তিনি লেফটেন্যান্ট কর্নেল মখছুরুল হককে চিনতে সক্ষম হন। আযমী জানাতে চেয়েছিলেন না, কারণ এটি তার জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারত।
আযমী জানান, অপহরণকারীরা তার পরিবারের ওপরও শারীরিক নির্যাতন চালায়। তার স্ত্রীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়, গৃহপরিচারিকার শরীরে হাত তোলা হয়, ম্যানেজারকে মাটিতে ফেলে উপর উঠে লাফালাফি করা হয়। এছাড়া আলমারির তালা ভেঙে তল্লাশি চালানো হয় এবং মোবাইল ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যাওয়াসহ এলাকার সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে। আযমীকে নিয়ে তারা মহাখালী হয়ে ক্যান্টনমেন্টে প্রবেশ করে এবং ডিজিএফআইয়ের কমপ্লেক্সে পৌঁছে গাড়ি থেকে নামানো হয়। সেখানে তাকে একটি সেলে দীর্ঘদিন আটক রাখা হয়।
সাক্ষ্যগ্রহণ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন মিজানুল ইসলাম, সঙ্গে ছিলেন ফারুক আহাম্মদসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
একই দিনে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় তিন জন গ্রেপ্তার আসামিকে। তারা হলেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।
মামলার ১০ জন পলাতক আসামির মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী, মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক, সাবেক প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক।
এর আগে ১৯ জানুয়ারি প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন গুমের শিকার বিএনপি নেতা হুম্মাম কাদের চৌধুরী। দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর রহমান। ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১ ১৩ আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বিডি থাই ফুড
- ইপিএস প্রকাশ করেছে কনফিডেন্স সিমেন্ট
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সোনালী পেপার
- ইপিএস প্রকাশ করেছে শাহজীবাজার পাওয়ার
- ইপিএস প্রকাশ করেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস
- ইপিএস প্রকাশ করেছে এপেক্স ট্যানারি
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইজেনারেশন
- ইপিএস প্রকাশ করেছে আনোয়ার গ্যালভানাইজিং
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সাফকো স্পিনিং
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সিলকো ফার্মা
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস
- নতুন জাতীয় দৈনিকে ক্যারিয়ার গড়ার বড় সুযোগ
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইন্দো-বাংলা ফার্মা
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইনটেক
- এক লাফে ভরিতে ১৪ হাজার টাকা কমলো সোনার দাম