ঢাকা, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২

নির্বাচন ঘিরে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক: প্রধান উপদেষ্টা

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০১ ১৬:৫৯:২৬

নির্বাচন ঘিরে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক: প্রধান উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত স্বস্তিদায়ক বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, নির্বাচনি প্রচারের পরিবেশ ইতিবাচক ধারায় এগোচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি এ প্রক্রিয়ায় আস্থার জায়গা তৈরি করেছে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে ইউরোপীয় চেম্বার অব কমার্স (ইউরোচেম)-এর চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এসব কথা বলেন তিনি। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার, ইউরোপীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচন, গণভোট এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলের ভূমিকা নিয়েও উভয় পক্ষ মতবিনিময় করেন।

ড. ইউনূস ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরুর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান শুল্কমুক্ত সুবিধার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যেন বাংলাদেশের রফতানি—বিশেষ করে তৈরি পোশাক—ইইউ বাজারে প্রবেশাধিকার বজায় রাখতে পারে, সে জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩০০টির বেশি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইইউসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গেও একই ধরনের চুক্তির পথে এগোতে চায় সরকার।

ড. ইউনূস বলেন, জাপানের সঙ্গে ইপিএ বাংলাদেশের রফতানিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ হলে বাংলাদেশের বাজার আরও বিস্তৃত হবে এবং রফতানি সক্ষমতা বাড়বে।

ইউরোচেমের চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশের বিদ্যমান বাণিজ্য সুবিধা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই সময় থাকতেই এফটিএ নিয়ে আলোচনা শুরু করা জরুরি।

তিনি বলেন, এ ধরনের চুক্তি হলে ইউরোপীয় বিনিয়োগ বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং উন্নত পশ্চিমা বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রতিযোগিতা শক্তিশালী হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ভারত ইতোমধ্যে ইইউর সঙ্গে এফটিএর পথে এগিয়েছে এবং ভিয়েতনাম এ সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।

ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশ-ইইউ বাণিজ্য সম্পর্কের কাঠামো পরিবর্তিত হবে, তবে তা ২০২৯ সালের আগে কার্যকর হবে না। তিনি জানান, প্রায় ২০ কোটি মানুষের বাজার হিসেবে বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি স্থানান্তরে ইইউ আগ্রহী। এ লক্ষ্যে ২০২৬ সালে একটি ইইউ-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম আয়োজনের প্রস্তুতিও চলছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর জন্য বাংলাদেশে কারখানা স্থানান্তরের বড় সুযোগ রয়েছে। দক্ষ শ্রমশক্তি ও তুলনামূলক কম উৎপাদন ব্যয় বাংলাদেশের প্রধান শক্তি। তিনি জানান, সরকার একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে তুলছে, যার লক্ষ্য বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বড় পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, ইইউ পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের পথে গুরুত্বপূর্ণ আস্থার প্রতীক।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন