ঢাকা, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২

‌‘আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’-র জয় নিশ্চিত করতে হবে’

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০১ ১৪:৪৭:৪১

‌‘আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’-র জয় নিশ্চিত করতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক: অধ্যাপক আলী রীয়াজ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদ মর্যাদা), বলেছেন, দীর্ঘ ১৬ বছরের স্বৈরাচারের জাঁতাকলে আক্রান্ত জাতি অবশেষে মুক্তির প্রহর গুনছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শাসনের কবল থেকে আপাতত মুক্তি পেলেও বর্তমান সংবিধানে আবারও স্বৈরশাসনের সুযোগ রয়ে গেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের পুনরাবৃত্তি রোধে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে, যা কার্যকর করতে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’-র জয় নিশ্চিত করতে হবে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল আসন্ন গণভোট ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ।

ড. আলী রীয়াজ বলেন, “‘হ্যাঁ’-এর প্রার্থী কে? এটি আপনি, আমি, আমরা সবাই। কারণ ‘হ্যাঁ’ আমাদের সকলের জন্য একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার পথ খুলে দেবে।” তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের শৃঙ্খলে নিক্ষিপ্ত জাতি আর কোনো স্বৈরশাসন চাইছে না। মানুষ চাইছে আলোকিত ভবিষ্যৎ, যেখানে থাকবে সাম্য, সমতা ও আনন্দ, কোনো ভয়ংকর বাহিনীর গুম বা গায়েবি মামলার আতঙ্ক থাকবে না।

তিনি তুলে ধরেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাতির ইতিহাসে এক অনন্য অর্জন। এই অভ্যুত্থান দেশের জীবনে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ এনেছে। ইতোমধ্যেই কিছু সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে, তবে আরও গভীর ও সুদূরপ্রসারী সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণেই দেশের সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে।

গণভোটের মাধ্যমে এই সনদ বাস্তবায়নের জন্য জনগণের সরাসরি সম্মতি অপরিহার্য। তিনি সবাইকে ভোট দিয়ে ‘হ্যাঁ’ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধীদল যৌথভাবে কাজ করবে, গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জনগণের সম্মতি বাধ্যতামূলক হবে, ডেপুটি স্পিকার ও গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতি বিরোধীদল থেকে নির্বাচিত হবেন এবং প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ ১০ বছরই থাকতে পারবেন। এছাড়া স্বাধীন বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। গণভোটে জয়ী ‘হ্যাঁ’ ফ্যাসিবাদের পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ চিরতরে বন্ধ করবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলিমুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নিজাম উদ্দিন এবং হবিগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সায়েম উদ্দিন আহম্মদসহ অন্যান্যরা।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন