ঢাকা, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২

দ্বিতীয় দিনের ধর্মঘটে থমকে গেল চট্টগ্রাম বন্দর

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০১ ১৩:১৪:২৮

দ্বিতীয় দিনের ধর্মঘটে থমকে গেল চট্টগ্রাম বন্দর

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো শ্রমিক ও কর্মচারীরা কর্মবিরতিতে যাওয়ায় দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল আটটা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মবিরতি বন্দরের সার্বিক কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। আগের দিনের ধর্মঘটে বন্দর কার্যক্রমে অচলাবস্থা দেখা দেওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মধ্যরাতেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়।

শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

কর্মবিরতির কারণে বন্দরের বিভিন্ন টার্মিনালের জেটিতে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও কার্গো ওঠানামার কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। শনিবার বিদেশি কোম্পানিকে এনসিটি ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে শ্রমিক দলের ডাকা আট ঘণ্টার ধর্মঘটের ফলে দিনভর বন্দরের কার্যক্রম অচল ছিল।

জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) টার্মিনালের বার্থ অপারেটররা জানান, শ্রমিক-কর্মচারীরা কাজে যোগ না দেওয়ায় জিসিবি জেটিতে নোঙর করা একটি কনটেইনারবাহী জাহাজসহ চারটি জাহাজের পণ্য খালাস কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, জিসিবি, কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) এবং নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি)—সবকটি টার্মিনালই অচল অবস্থায় রয়েছে। পাশাপাশি আন্দোলনকারীরা আজ প্রশাসনিক কার্যক্রমেও আট ঘণ্টার কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন।

এদিকে আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে শনিবার বন্দরের চারজন শ্রমিক-কর্মচারীকে পানগাঁও আইসিটিতে বদলি করা হয়েছে। বদলি হওয়া কর্মচারীরা হলেন— অডিট সহকারী মো. হুমায়ুন কবির, ইঞ্জিন ড্রাইভার মো. ইব্রাহিম খোকন, উচ্চ হিসাব সহকারী মো. আনোয়ারুল আজিম এবং এস এস খালাসী মো. ফরিদুর রহমান। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তারা সবাই শ্রমিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

এর আগে এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করলে ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত একইভাবে মিছিল ও সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ, যা তখনও বন্দর এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

ইএইচপি ন

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন