ঢাকা, শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২

জয়ী হলে পরাজিত দল নিয়েই সরকার গঠন করব: শফিকুর রহমান

২০২৬ জানুয়ারি ৩১ ১৫:০৯:৩১

জয়ী হলে পরাজিত দল নিয়েই সরকার গঠন করব: শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হলে পরাজিত দলগুলোকে নিয়েই সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। ঐক্য, তারুণ্য ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার তুলে ধরে এই ঘোষণা দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীরা পরাজিত হলেও তাদের বাদ দেওয়া হবে না। বরং সবাইকে সঙ্গে নিয়েই একটি ঐক্যের সরকার গঠন করা হবে। তার ভাষায়, আগামীর বাংলাদেশ হবে তারুণ্যের বাংলাদেশ, যেখানে যুবকরাই নেতৃত্ব দেবে।

তিনি বলেন, ঐক্যের সরকারের শর্ত হিসেবে ব্যাংক লুট, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সাধারণ মানুষের পকেটে হাত দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করার অঙ্গীকার থাকতে হবে। এসব অপরাধ থেকে বেরিয়ে এলে সবাইকে রাষ্ট্র পরিচালনার অংশীদার করা হবে।

যুবসমাজ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, দেশের তরুণরা ভাতা নয়, দক্ষতা অর্জনের সুযোগ চায়। সেই লক্ষ্যেই যুবকদের দেশ গড়ার প্রধান হাতিয়ারে পরিণত করা হবে। তিনি জানান, ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে ৬২ শতাংশই তরুণ, যা তারুণ্যনির্ভর বাংলাদেশের প্রতিফলন।

ন্যায়বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের একজন সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সবার জন্য একই আইন ও একই বিচার নিশ্চিত করা হবে। দেশের প্রতিটি নাগরিকের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠাই তাদের লক্ষ্য।

ডা. শফিকুর রহমান জুলাই সংস্কার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, জুলাইকে সম্মান করতে হবে এবং সেই সংস্কারের সব শর্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাতিকে আর কোনোভাবে বিভক্ত করা হবে না; বরং ঐক্যই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি।

ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়ে তিনি বলেন, সব ধর্মের মানুষ পূর্ণ স্বাধীনতার সঙ্গে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবেন। কেউ কারও ধর্মীয় অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারবে না—এ বিষয়ে ১১ দলীয় জোট অঙ্গীকারবদ্ধ।

শিক্ষা ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থায় জাতি গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবর্তন নেই। একটি উন্নত ও নৈতিক জাতি গড়তে শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, দেশবাসী দীর্ঘ সময় ধরে নিপীড়িত ছিল। এখন মানুষ প্রকৃত পরিবর্তন চায়। ১৩ ফেব্রুয়ারির পর যে পরিবর্তন আসবে, তা হবে যুবসমাজের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যের রাজনীতি পরিহার করে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

নারী নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, যারা নারী সমাজের প্রতি সহিংস আচরণ করে, তাদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়। নারীদের সম্মান করতে শিখতে হবে, নইলে কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হবে ১১ দলীয় জোট।

চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্ষমতায় এলে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু কেউ সেই সুযোগ গ্রহণ না করলে কঠোর হাতে দমন করা হবে।

সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের সম্মানজনক বেতনের বিষয়েও কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন জামায়াত আমির। পাশাপাশি কওমি মাদ্রাসার উন্নয়নে আলেমদের সঙ্গে আলোচনার কথাও জানান তিনি।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।

সমাবেশ শেষে জামায়াতে ইসলামীর আমির কুমিল্লার বুড়িচং ও দাউদকান্দি এলাকায় পৃথক নির্বাচনি সভায় অংশ নিয়ে একই বার্তা পুনর্ব্যক্ত করেন ঐক্য, ন্যায় ও তারুণ্যনির্ভর বাংলাদেশ গড়তেই এগিয়ে যাচ্ছে ১১ দলীয় জোট।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন