ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২

শেরপুর সংঘর্ষ: জামায়াতকে দায়ী করে তদন্তের দাবি বিএনপির

২০২৬ জানুয়ারি ২৯ ১৪:০১:২৩

শেরপুর সংঘর্ষ: জামায়াতকে দায়ী করে তদন্তের দাবি বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেরপুরে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, “এই সংঘাত কি এড়ানো যেত না? নির্ধারিত সময়ের আগে একটি দল কেন সব চেয়ার দখল করল, তাদের লোক কেন লাঠিশোঠা নিয়ে হাজির হল? প্রশাসনের আহ্বান উপেক্ষা করে সংঘাতের পথ বেছে নেওয়া কেন?” তিনি দ্রুততম সময়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

তিনি আরও বলেন, “শেরপুরে স্থানীয় প্রশাসনের আয়োজন করা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে সব প্রার্থীর জন্য নির্ধারিত আসন ছিল। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা সব চেয়ার দখল করে রেখেছিলেন এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্ধারিত আসনে বসতে পারছিলেন না। প্রশাসনের বারবার আহ্বানের পরও তারা চেয়ার ছাড়তে অস্বীকার করল। চেয়ারে বসার মতো তুচ্ছ ঘটনায় সংঘর্ষে পরিণত হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। গণঅভ্যুত্থানের পর আমাদের প্রত্যাশা ছিল শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর নির্বাচন।”

মাহদী আমিন বলেন, “দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে, এবং দেশের মানুষের বিশ্বাস অনুযায়ী, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে ইনশাআল্লাহ বিএনপিই বিজয়ী হবে। আমাদের লক্ষ্য, নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণ ও বিতর্কমুক্ত হয়, আর কেউ সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে। শেরপুরের ঘটনা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত।”

তিনি বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায়, জামায়াতের প্রার্থীকে বারবার পুলিশ, প্রশাসন, সেনাবাহিনী এবং বিএনপির নেতাকর্মীরাও অনুরোধ করেছিলেন অন্য পথে চলার জন্য। তবু তিনি সেই দিকেই গেছেন। এতে একজন নিহত হয়েছেন, এবং বিএনপির ৪০-এর বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায়। এদের সবাই শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আশা করছিলেন।”

মাহদী আমিন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও জোরদার ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে। সব মহলকে অনুরোধ, কোনো উসকানি না দিন এবং সবাই শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করুন। শেরপুরের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন অন্য কোথাও না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। প্রতিটি রাজনৈতিক দল দায়িত্বশীল ও গণতান্ত্রিক আচরণ বজায় রাখুক।”

শেষে তিনি বলেন, “বিএনপির অগ্রাধিকার হলো একটি শান্তিপূর্ণ, বিতর্কমুক্ত ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। গণতান্ত্রিক সৌন্দর্য বজায় থাকলে ইনশাল্লাহ আমরা সবাই মিলে গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পারব।”

সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য জুবায়ের বাবু।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত