ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২

গণভোটেই রাষ্ট্র সংস্কারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: আলী রীয়াজ

২০২৬ জানুয়ারি ২২ ১৭:৩৮:৩১

গণভোটেই রাষ্ট্র সংস্কারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: আলী রীয়াজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের ভবিষ্যৎ পথচলা ও রাষ্ট্র সংস্কারের সিদ্ধান্ত জনগণের হাতেই ন্যস্ত—এমন বার্তা দিয়ে গণভোটে অংশগ্রহণ ও ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানালেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) ও গণভোট বিষয়ক জনসচেতনতামূলক প্রচারের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, সাম্য ও মর্যাদাভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে চাইলে গণভোটে হ্যাঁ-তে সিল দিতে হবে। গণভোটের প্রতীক টিক চিহ্ন।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে খুলনা বিভাগীয় প্রশাসনের আয়োজনে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। এটি কেবল কাগজে লেখা কোনো দলিল নয়; বাস্তবে এটি রক্তের বিনিময়ে অর্জিত। যারা সরাসরি এই রক্তের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেননি, তাদের দায়িত্ব হলো এই সনদকে স্বীকৃতি দেওয়া। ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্ধারণে এবারের গণভোটই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিরপেক্ষ থাকলেও গণভোটের প্রশ্নে সরকার স্পষ্টভাবে হ্যাঁ-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে প্রচারণা চালাতে কোনো আইনগত বাধা নেই।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদমুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা। এবারের গণভোট হচ্ছে নতুন বাংলাদেশ কিংবা নতুন বন্দোবস্তের পক্ষে জনগণের মতামত যাচাইয়ের সুযোগ।

তিনি বলেন, সংবিধানের ভেতরে ফ্যাসিবাদের যে সুযোগ রয়ে গেছে, গণভোটের মাধ্যমে সেই পথ বন্ধ করাই এখন সময়ের দাবি। গণঅভ্যুত্থান আমাদের ফ্যাসিবাদের যাতাকল থেকে মুক্ত করেছে, আর জুলাই জাতীয় সনদের পক্ষে রায় এলে সংবিধানেও ফ্যাসিবাদের রাস্তা বন্ধ হবে।

খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মাকসুদ হেলালী, রেঞ্জ ডিআইজি মো. রেজাউল হক এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. জাহিদুল হাসান।

মতবিনিময় সভায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলার জেলা প্রশাসকসহ বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, চেম্বার অব কমার্স প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সুশীল সমাজ, এনজিও প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত