ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২

জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায়মুক্তি অধ্যাদেশ অনুমোদন দিল সরকার

২০২৬ জানুয়ারি ১৫ ১৭:৩৬:৩৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায়মুক্তি অধ্যাদেশ অনুমোদন দিল সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের সুরক্ষা এবং আইনি দায়মুক্তি নিশ্চিত করতে বহুল প্রতীক্ষিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ’ অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আইন উপদেষ্টা জানান, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে পরিচালিত সকল রাজনৈতিক প্রতিরোধ ও কর্মকাণ্ডকে এই আইনের আওতায় সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। ফলে গণঅভ্যুত্থানকালে এসব কর্মকাণ্ডের জন্য অংশগ্রহণকারীদের ওপর কোনো ফৌজদারি দায় বা দায়িত্ব বর্তাবে না। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত কোনো মামলা হয়ে থাকলে সরকার তা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা নেবে এবং নতুন করে কোনো মামলা করা যাবে না।

তবে ব্যক্তিগত স্বার্থ বা প্রতিহিংসা থেকে সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে এই আইন প্রযোজ্য হবে না বলে স্পষ্ট করেছেন আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, “যদি কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থে, সংকীর্ণ উদ্দেশ্যে বা লোভের বশবর্তী হয়ে কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকে, তবে সে দায়মুক্তি পাবে না। এই আইন কেবল সম্মিলিতভাবে ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়াদের আইনি সুরক্ষার জন্য তৈরি করা হয়েছে।”

কোন হত্যাকাণ্ডটি ‘রাজনৈতিক প্রতিরোধ’ আর কোনটি ‘ব্যক্তিগত স্বার্থে’ সংঘটিত—তা নির্ধারণের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে। যদি কোনো ভিকটিমের পরিবার মনে করে তাদের স্বজন ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন, তবে তারা মানবাধিকার কমিশনে আবেদন করতে পারবেন। কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে পুলিশের প্রতিবেদনের মতোই গণ্য হবে।

ড. আসিফ নজরুল আরও জানান, আগামী ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে এই অধ্যাদেশটি পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হবে। এর মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের প্রতি সরকারের দেওয়া অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার পূর্ণ হলো বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত