ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
নবীজির যুগের মসজিদ: ইবাদত ও মানবিকতার মিলনক্ষেত্র
নিজস্ব প্রতিবেদক: মসজিদ শুধু নামাজের স্থান নয়; এটি মুসলিম সমাজের প্রাণকেন্দ্র এবং আধুনিক কমিউনিটি সেন্টারের মতো কাজ করে। ইসলামী চিন্তাবিদ ড. জাসের আওদা বলেছেন, মুসলিম উম্মাহ যদি বর্তমান সংকট কাটিয়ে উঠতে চায়, তবে মসজিদের বহুমুখী সামাজিক ভূমিকা পুনরায় জাগ্রত করতে হবে।
ড. আওদার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সময় মদিনার মসজিদে নববী ছিল ইবাদত, শিক্ষা, সামাজিক সেবা ও প্রশাসনের কেন্দ্র। এখানে শুধু নামাজ আদায় হতো না, বরং সমাজ পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সম্পন্ন হতো।
নবীজির যুগে মসজিদে নববী প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায়ের প্রধান কেন্দ্র ছিল। সকল পুরুষ, নারী, শিশু এবং বৃদ্ধের প্রবেশাধিকার উন্মুক্ত ছিল। নারীরা পুরুষদের পেছনে কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতেন। নবীজির সুন্নাহ অনুসারে, কোনো ব্যক্তিকে মসজিদে প্রবেশে বাধা দেওয়া উচিত নয়।
সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও মসজিদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। নবী করিম (সা.) মসজিদকে মানুষের পারস্পরিক খোঁজখবর নেওয়ার স্থান হিসেবে ব্যবহার করতেন। অসুস্থ বা অনুপস্থিত সাহাবির খবর নিতে তিনি নিজে উদ্যোগ নিতেন এবং প্রয়োজন হলে সাহায্যের ব্যবস্থা করতেন।
মসজিদ ছিল দাওয়াত ও ইসলামি শিক্ষার কেন্দ্র। আগ্রহী মুসলিম ও অমুসলিম উভয়ই ইসলাম সম্পর্কে জানতে পারতেন, এবং নবীজির যুগে কেউ মসজিদে প্রবেশে বাধাপ্রাপ্ত হতো না। আনন্দ ও সামাজিক অনুষ্ঠানও মসজিদে অনুষ্ঠিত হতো। বিবাহের ঘোষণা, ঈদ উদযাপন এবং সামাজিক আনন্দ আয়োজনের ব্যবস্থা করা হতো। হজরত আয়েশা বর্ণনা করেন, মসজিদে প্রদর্শনী ও খেলাধুলার আয়োজনও হতো, যা নবীজির অনুমোদিত ছিল।
রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সাহাবিদের সঙ্গে আলোচনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণও মসজিদে হতো। অনেক রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এখান থেকেই নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, যুদ্ধাহত ও অসুস্থদের সেবা প্রদানের কাজও মসজিদে করা হতো। মুসলিম সভ্যতায় হাসপাতাল তৈরি হওয়া পর্যন্ত এসব সেবা মূলত মসজিদে প্রদান করা হতো।
শিক্ষার ক্ষেত্রে মসজিদ ছিল কেন্দ্রবিন্দু। অশিক্ষিত সাহাবিরা এখানে পড়া-লিখা শিখতেন এবং পরবর্তীতে মুসলিম বিশ্বের বিশাল জ্ঞানভিত্তিক সভ্যতার ভিত্তি গড়ে উঠেছিল মসজিদকেন্দ্রিক শিক্ষার মাধ্যমে। ড. আওদা উল্লেখ করেছেন, মসজিদে একমাত্র নিষিদ্ধ ছিল বাণিজ্যিক লেনদেন। নবী করিম (সা.) স্পষ্টভাবে বলেছেন, মসজিদ কখনো বস্তুগত লাভের জায়গা হবে না।
সব মিলিয়ে, নবীজির যুগে মসজিদ ছিল এক জীবন্ত সমাজকেন্দ্র। এখানে ইবাদত, শিক্ষা, মানবিক সেবা, সামাজিক সংযোগ এবং আনন্দের চর্চা হতো। ড. আওদার মতে, মুসলিম সমাজের পুনর্জাগরণের জন্য এই আদর্শে ফিরে যাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- মাস্টারদা সূর্য সেন হল অ্যালামনাইয়ের নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি ডাবলু, সাধারণ সম্পাদক পলাশ
- ৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৬ অক্টোবর)
- নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৭০ শতাংশের ভিসা প্রত্যাখ্যান, বাড়ছে উদ্বেগ
- আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে ২২৮ পদে নিয়োগ
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ভর্তির আবেদন শুরু আজ
- ২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস
- বিআইডব্লিউটিসি ও মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই
- সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃ/ত্যুদণ্ড কার্যকর
- এসএসসি-এইচএসসিতে ফেল করলে ফের পরীক্ষা, এরপর কারিগরি শিক্ষা
- হরমুজে জাহাজডুবি, সাগরে ভাসছে আইফোন
- খুলনায় ৩০ কেজি ধানে তৈরি দুর্গাপ্রতিমা দেখতে ভিড়
- সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃ/ত্যুতে রাজনীতিতে শূন্যতা তৈরি হয়েছে: রিজভী
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৩ অক্টোবর)