ঢাকা, সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২

জুলাই গণহত্যা মামলায় সালমান-আনিসুলের ভাগ্য নির্ধারণ আজ

২০২৬ জানুয়ারি ১২ ১১:৪৬:৫২

জুলাই গণহত্যা মামলায় সালমান-আনিসুলের ভাগ্য নির্ধারণ আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘিরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়াতে যাচ্ছে বিচার প্রক্রিয়া। কারফিউ জারি করে গণহত্যায় উসকানি ও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে আজ আদেশ দেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বিচারিক বেঞ্চ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে অভিযোগ গঠন বিষয়ে আদেশের জন্য দিনটি নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে ৬ জানুয়ারি আসামিদের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী সালমান ও আনিসুলের অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি দাবি করেন, তার মক্কেলরা এসব অভিযোগে সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং চার্জ গঠনের মতো পর্যাপ্ত আইনি ভিত্তি নেই।

শুনানিতে আরও বলা হয়, প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত ফোনালাপটি সালমান ও আনিসুলের নয়। এ দাবির পক্ষে বিদেশি বিশেষজ্ঞ দিয়ে ভয়েস রেকর্ড যাচাইয়ের আবেদন জানানো হলেও আদালত ৪ জানুয়ারি সেই আবেদন খারিজ করে দেন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগপত্রে সালমান ও আনিসুলের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কারফিউ জারির মাধ্যমে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি, প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্র। অভিযোগে বলা হয়, তাদের ধারাবাহিক সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনার ফলে মিরপুর-১, ২, ১০ ও ১৩ নম্বর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আওয়ামী লীগের সশস্ত্র কর্মীদের হামলায় অসংখ্য ছাত্র ও সাধারণ মানুষ নিহত হন। কিন্তু এসব সহিংসতা বন্ধে তারা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি।

প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন দমনে নীতিগত সিদ্ধান্তে সরাসরি যুক্ত ছিলেন সালমান ও আনিসুল। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯ জুলাই তাদের মধ্যে একটি ফোনালাপ হয়, যেখানে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত দমনমূলক পদক্ষেপের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। কথোপকথনের একপর্যায়ে ‘ওদের শেষ করে দেওয়া হবে’—এমন বক্তব্য শোনা যায় বলে দাবি করে রাষ্ট্রপক্ষ।

গত ২২ ডিসেম্বর শুনানিকালে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালে সেই ফোনালাপের অডিও রেকর্ডসহ অভিযোগ উপস্থাপন করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আবেদন জানান। এর আগে ৪ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নেয় এবং একই দিন সকালে প্রসিকিউশন ফরমাল চার্জ দাখিল করে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত