ঢাকা, রবিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২

দর কষাকষিতে ১১০ আসন ছাড়তে রাজি জামায়াত

২০২৬ জানুয়ারি ১১ ১১:৪১:২৯

দর কষাকষিতে ১১০ আসন ছাড়তে রাজি জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। টানা কয়েক দিনের বৈঠক ও দরকষাকষির পর প্রাথমিকভাবে একটি বড় ধরনের সমঝোতার পথে এগোচ্ছে ১১ দল। নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এই সমঝোতার অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামী মোট ১১০টি আসন ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, জামায়াত নিজেদের জন্য মোট ১৯০টি আসন ধরে রাখতে চায়। এর মধ্যে দলটির নিজস্ব জরিপ ও রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের ভিত্তিতে ১৭০টি আসনকে ‘অস্পর্শনীয়’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলো কোনো অবস্থাতেই অন্য দলকে ছাড় দেওয়ার পক্ষে নয় জামায়াত। পাশাপাশি আরও ২০টি আসন নিয়ে আলাদা পর্যবেক্ষণ চলছে। এসব আসনে অন্য দলের প্রার্থী দিলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দুর্বল হতে পারে—এমন আশঙ্কায় সেখানেও জামায়াত প্রার্থী রাখার অবস্থানে রয়েছে।

যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হয়নি, তবে সাম্প্রতিক আলোচনায় ১১ দলের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। এর আওতায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ৪০টি, ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টিকে (এনসিপি) ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৫টি, খেলাফত মজলিসকে ৭টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিকে (এলডিপি) ৪টি, এবি পার্টিকে ৩টি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে (বিডিপি) ২টি আসন ছাড় দিতে সম্মত হয়েছে জামায়াত।

তবে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন ৪০টির বাইরে আরও কয়েকটি আসনের দাবি তুলেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত কয়েক দিনে এ নিয়ে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে একাধিক দফা বৈঠক হয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের দাবিকৃত কিছু আসনে জামায়াত ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী থাকায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। জনপ্রিয়তা ও প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলনকে আরও কিছু আসন ছেড়ে দেওয়া হতে পারে বলে আলোচনা চলছে।

এবি পার্টির জন্য তিনটি আসন ছাড়ের বিষয়েও প্রাথমিক ঐকমত্য হয়েছে। এর মধ্যে ফেনী-২ আসনে দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং বরিশাল-৩ আসনে সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া (ফুয়াদ) প্রার্থী হয়েছেন—এই দুই আসনে জামায়াত প্রার্থী দেয়নি। এছাড়া পটুয়াখালী-১ আসনে এবি পার্টির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আবদুল ওহাব মিনার মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। যদিও সেখানে জামায়াতের প্রার্থী রয়েছে, তবে সমঝোতা চূড়ান্ত হলে মনোনয়ন প্রত্যাহারের সম্ভাবনা আছে।

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে (বিডিপি) দেওয়া দুটি আসনের মধ্যে ময়মনসিংহ-৯ আসনে দলটির চেয়ারম্যান এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম এবং ভোলা-৩ আসনে মহাসচিব নিজামুল হক নাঈম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

এদিকে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা এখনো শেষ হয়নি। এসব দল এক বা দুইটি করে আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আসন সমঝোতার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমাদের মধ্যে এখনো কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা বাকি আছে। খুব শিগগিরই আরেকটি বৈঠক হবে। সেটি শেষ হলেই আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করে সবাইকে জানানো হবে।’

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১১ জানুয়ারি)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১১ জানুয়ারি)

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্ববাজারে স্বর্ণের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন... বিস্তারিত