ঢাকা, শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২

গাজার আন্তর্জাতিক শান্তি বাহিনীতে অংশ নিতে আগ্রহী বাংলাদেশ

২০২৬ জানুয়ারি ১০ ১৯:৪৫:৫৫

গাজার আন্তর্জাতিক শান্তি বাহিনীতে অংশ নিতে আগ্রহী বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা ও গাজার স্থিতিশীলতা বাহিনীতে (আইএসএফ) অংশ নেওয়ার বিষয়ে “নীতিগত আগ্রহ” প্রকাশ করেছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ওয়াশিংটনে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এই অবস্থান তুলে ধরেন অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান।

বৈঠকে বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা, ভিসা নীতি, রোহিঙ্গা সংকট এবং আন্তর্জাতিক শান্তি সংক্রান্ত ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, গাজার আইএসএফে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি মার্কিন পক্ষ ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গাজায় মোতায়েন হওয়া আন্তর্জাতিক বাহিনীর (আইএসএফ) নেতৃত্বে একজন মার্কিন দুই তারকা জেনারেল নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে গাজার নিরাপত্তা, পুনর্গঠন এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামরিক ভূমিকা আরও জোরদার হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ ও মানবিক সহায়তা সমন্বয়ের জন্য ইতিমধ্যেই ইসরায়েলে একটি যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বেসামরিক–সামরিক সদর দপ্তর গঠন করা হয়েছে। এছাড়া গাজার পুনর্গঠন তত্ত্বাবধানে ‘গাজা বোর্ড অব পিস’ নামে একটি আন্তর্জাতিক নির্বাহী পরিষদ গঠনের প্রস্তাব রয়েছে, যার নেতৃত্বে থাকবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গাজায় সরাসরি কোনো মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হবে না। তবে আন্তর্জাতিক বাহিনীর কমান্ডে একজন মার্কিন জেনারেলের উপস্থিতি ইসরায়েলের আস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মনে করছেন। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ইতিমধ্যেই আইএসএফ ও বোর্ড অব পিস গঠনের অনুমোদন দিয়েছে।

এদিকে, বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রসঙ্গেও আলোচনা করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ কর্তৃক মার্কিন কৃষিপণ্যের আমদানি সম্প্রতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রক্রিয়ায় আরোপিত ‘ভিসা বন্ড’ শর্ত শিথিল করার অনুরোধ জানান। জবাবে মার্কিন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পর্যালোচনার আশ্বাস দিয়েছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গাজার আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কেবল জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দেশের অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতা নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন নতুন নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে বাংলাদেশের সংযুক্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতে কূটনৈতিক গুরুত্ব বাড়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও নৈতিক বিতর্কও তৈরি হতে পারে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত