ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২

বাংলাদেশ-উরুগুয়ে সম্পর্কের নতুন অধ্যায়, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত

২০২৬ জানুয়ারি ০৭ ১৭:০৩:৩৯

বাংলাদেশ-উরুগুয়ে সম্পর্কের নতুন অধ্যায়, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও গতিশীল করতে বাংলাদেশ ও উরুগুয়ের মধ্যে নিয়মিত রাজনৈতিক পরামর্শের কাঠামো গড়ে উঠল। এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় পরামর্শসভা সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

কূটনৈতিক মহলে এ সমঝোতাকে বাংলাদেশ-উরুগুয়ে সম্পর্ক জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে নিয়মিত ও কাঠামোবদ্ধ রাজনৈতিক সংলাপের পথ সুগম করবে।

১৯৭২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর বুধবার (৭ জানুয়ারি) প্রথমবারের মতো দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক পরামর্শসভা অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আয়োজিত এই বৈঠকে উভয় দেশের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।

সভায় বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং উরুগুয়ের পক্ষে দেশটির অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত আলবার্তো আন্তোনিও গুয়ানি আমারিলা সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন এবং নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।

বৈঠকে উভয় পক্ষ বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করে। পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জ্বালানি, কৃষি, ক্রীড়া এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দুই দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ জোরদার এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অন্যদিকে উরুগুয়ে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, জ্বালানি এবং ক্রীড়াসহ একাধিক অগ্রাধিকার খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করে।

বৈঠকে প্রতিনিধিদল দুটি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে মতবিনিময় করে। একই সঙ্গে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে উভয় দেশ তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।

বাংলাদেশ বৈঠকে রোহিঙ্গাদের চলমান মানবিক সংকট সম্পর্কে উরুগুয়েকে অবহিত করে এবং এ ইস্যুতে দেশটির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানায়।

পরামর্শসভা শেষে উভয় পক্ষ নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা, পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে পরবর্তী রাজনৈতিক পরামর্শসভা আয়োজন এবং উচ্চপর্যায়ের সফরের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে একমত হয়।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত