ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২

নবম পে-স্কেলে ৯০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির খবর গুজব: পে-কমিশন

২০২৬ জানুয়ারি ০৭ ১২:০৮:৫৮

নবম পে-স্কেলে ৯০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির খবর গুজব: পে-কমিশন

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নবম জাতীয় বেতন স্কেল ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে ৯০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি এবং ১৬ গ্রেড চালুর খবর ছড়িয়ে পড়লেও জাতীয় বেতন কমিশন (পে-কমিশন) এটিকে পুরোপুরি গুজব বলে নাকচ করেছে।

মঙ্গলবার রাতে কমিশনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, নবম পে-স্কেলে কত শতাংশ বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করা হবে সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। একইভাবে গ্রেড সংখ্যা নিয়েও কমিশনের সদস্যদের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয়নি। এসব বিষয় চূড়ান্ত না হওয়ায় সুপারিশপত্র এখনো জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিশনের এক সদস্য দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘বেতন বৃদ্ধির হার, গ্রেড সংখ্যা এবং সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের কাঠামো এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে এখনো কমিশনের ভেতরে মতভেদ রয়েছে। তাই ৯০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি বা ১৬ গ্রেড চালুর যে তথ্য ছড়িয়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’

এরই মধ্যে নবম পে-স্কেল নিয়ে স্থগিত থাকা পূর্ণ কমিশনের সভার নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছে পে-কমিশন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে কমিশনের সভাকক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

কমিশনের আরেক সদস্য জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় শুরু হওয়া সভায় বেতন কাঠামো, গ্রেড সংখ্যা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

পে-কমিশন সূত্র জানায়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন গ্রেড নিয়ে কমিশনের ভেতরে মূলত তিন ধরনের চিন্তাধারা রয়েছে। বর্তমানে চালু থাকা ২০ গ্রেড বহাল রেখে যৌক্তিক হারে বেতন ও ভাতা বাড়ানোর পক্ষে রয়েছেন কমিশনের একটি অংশ। তবে এই প্রস্তাবে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন অন্য একটি অংশ।

অন্যদিকে, কমিশনের অনেক সদস্য মনে করছেন, গ্রেড সংখ্যা ২০ থেকে কমিয়ে ১৬ করা হলে কাঠামো আরও কার্যকর হবে। পাশাপাশি আরেকটি অংশের দাবি, গ্রেড সংখ্যা আরও কমিয়ে ১৪তে নামিয়ে আনা উচিত, যাতে বেতন বৈষম্য কমানো সম্ভব হয়।

জানা গেছে, নবম পে-স্কেল নিয়ে বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের কাছ থেকে পাওয়া মতামতগুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছে কমিশন। প্রতিবেদন তৈরির কাজ প্রায় শেষ হলেও কয়েকটি মৌলিক বিষয়ে ঐকমত্য না হওয়ায় সুপারিশ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

পে-কমিশন জানিয়েছে, বাস্তবতা ও আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি গ্রহণযোগ্য নবম পে-স্কেল প্রণয়নই তাদের মূল লক্ষ্য। সব পক্ষের মতামত পর্যালোচনার পর সদস্যরা যখন একমত হবেন, তখনই সরকারের কাছে চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেওয়া হবে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত