ঢাকা, বুধবার, ৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২২ পৌষ ১৪৩২

শেয়ারবাজারে ভয়াবহ আকারে বাড়ছে বিদ্যুৎ কোম্পানির সংকট

২০২৬ জানুয়ারি ০৫ ১৮:০৯:০০

শেয়ারবাজারে ভয়াবহ আকারে বাড়ছে বিদ্যুৎ কোম্পানির সংকট

নিউজ ডেস্ক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানিগুলো এখন কেবল লোকসানের বৃত্তেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এদের অস্তিত্ব টিকে থাকা নিয়েই বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরকারি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির (পিপিএ) মেয়াদ শেষ হওয়া, নতুন চুক্তির অনিশ্চয়তা এবং পাহাড়সম ঋণের চাপে কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা বা ‘গোয়িং কনসার্ন’ এখন চরম ঝুঁকির মুখে। সাম্প্রতিক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, তালিকাভুক্ত ১১টি কোম্পানির মধ্যে অন্তত পাঁচটির আর্থিক ও পরিচালনাগত ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।

বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি মনে করছে, কোম্পানিগুলোর এই আর্থিক অস্পষ্টতা ও চুক্তি নিয়ে ধোঁয়াশা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা তলানিতে নামিয়ে এনেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় কোম্পানিগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে সংস্থাটি। বিশ্লেষকদের মতে, ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উচ্চ উৎপাদন ব্যয় এবং তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরোনো কেন্দ্রগুলো সচল রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদী সরকারি চুক্তি ছাড়া এই খাতে বিনিয়োগ এখন আর টেকসই নয়।

সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে। বৈদেশিক ঋণের বিনিময় হারজনিত লোকসান হিসেবে ৪ হাজার ৭১৫ কোটি টাকা মূলধনে সমন্বয় করা এবং ২৭ হাজার ৪৩৬ কোটি টাকার সম্পদের সঠিক যাচাই না থাকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন নিরীক্ষকরা। বিপুল লোকসানের কারণে কোম্পানিটি ইতিমধ্যে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেমে গেছে। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, ভেন্ডর চুক্তি ও সুদ ব্যয়ের সমন্বয় করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

এদিকে বিতরণ কোম্পানি ডেসকোও বড় ধরনের আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে। সংস্থাটির ৫৬০ কোটি টাকা পাওনার মধ্যে অর্ধেকের বেশি এখন আদায় অযোগ্য হয়ে পড়েছে, যার বিপরীতে পর্যাপ্ত প্রভিশন রাখা হয়নি। এমনকি বাতিল হয়ে যাওয়া গুলশান সাবস্টেশন প্রকল্পকে এখনো সম্পদ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। বিহারি ক্যাম্পের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল নিয়ে আইনি জটিলতা কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থাকে আরও নাজুক করে তুলেছে, যার প্রভাব পড়ছে ডিভিডেন্ডের ওপর।

উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর অবস্থাও শোচনীয়। বারাকা পাওয়ারের ফেঞ্চুগঞ্জ কেন্দ্রটি চুক্তি শেষ হওয়ায় গত অক্টোবর থেকে বন্ধ। খুলনা পাওয়ারের দুটি ইউনিটের পিপিএ শেষ হওয়ায় আগস্ট থেকে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে, যার ফলে বিপুল বিনিয়োগ এখন অকেজো সম্পদে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে। একইভাবে ডরিন পাওয়ারের তিনটি গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। এসব কোম্পানির পাওনা আদায় ও দায় পরিশোধের হিসাব নিয়েও অডিটররা আপত্তি তুলেছেন।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এই সংকটকে নীতিগত ও কৌশলগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন। তিনি মনে করেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর এবং বাজারভিত্তিক উদ্যোগ ছাড়া এই খাতকে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব নয়। চুক্তি পুনর্নবায়ন ও সঠিক আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে বিদ্যুৎ খাতের এই কোম্পানিগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো কঠিন হবে।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত