ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২
গুমের ১,৫৬৯টি ঘটনার সত্যতা মিলেছে, প্রতিবেদন জমা দিল কমিশন
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে গত দেড় দশকে সংঘটিত বলপূর্বক গুমের ঘটনার পেছনে মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করেছে এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি গুমের নির্দেশ দিয়েছেন।
রোববার (৪ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে গুম সংক্রান্ত ‘কমিশন অফ ইনকোয়ারি’ তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় এসব তথ্য জানায়।
কমিশনের সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি জানায়, তদন্তে মোট ১,৯১৩টি অভিযোগ জমা পড়েছিল। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ১,৫৬৯টি ঘটনাকে সংজ্ঞানুযায়ী ‘বলপূর্বক গুম’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৮৭টি ঘটনা ‘নিখোঁজ ও মৃত’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত। তবে প্রকৃত গুমের সংখ্যা ৪ থেকে ৬ হাজার হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কমিশন সদস্য নাবিলা ইদ্রিস।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুমের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে যারা জীবিত ফিরেছেন তাদের ৭৫ শতাংশই জামায়াত-শিবিরের এবং ২২ শতাংশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। অন্যদিকে, যারা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন তাদের মধ্যে ৬৮ শতাংশ বিএনপির এবং ২২ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী।
হাই প্রোফাইল গুমের ঘটনাগুলোতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে কমিশন। বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, জামায়াত নেতা আবদুল্লাহিল আমান আযমী ও ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেমের মতো ব্যক্তিদের গুম করার পেছনে সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশ ছিল। এমনকি আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই গোপনে ভিক্টিমদের ভারতে হস্তান্তরের (রেন্ডিশন) প্রমাণও পাওয়া গেছে।
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, গুমের পর হত্যার শিকার ব্যক্তিদের লাশ ফেলার জন্য নির্দিষ্ট কিছু জায়গাকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে বরিশালের বলেশ্বর নদীতে সবচেয়ে বেশি লাশ ফেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া বুড়িগঙ্গা নদী ও মুন্সিগঞ্জ এলাকাতেও শত শত গুম হওয়া ব্যক্তির মরদেহ ফেলে দেওয়া হতো। প্রধান উপদেষ্টা এসব জায়গার ম্যাপিং করার জন্য কমিশনকে নির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রতিবেদন গ্রহণ করে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস কমিশন সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। তিনি একে একটি ‘ঐতিহাসিক দলিল’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “এটি গণতন্ত্রের লেবাসে মানুষের ওপর পৈশাচিক আচরণের ডকুমেন্টেশন। জাতি হিসেবে আমাদের এই নৃশংসতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।” তিনি প্রতিবেদনটি সহজ ভাষায় জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে কার্যকর সুপারিশ পেশ করার নির্দেশ দেন।
কমিশন সদস্যরা ভিক্টিমদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠনের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এসপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- নোয়াখালী এক্সপ্রেস বনাম রংপুর রাইডার্স: ম্যাচটি সরাসরি দেখুন (LIVE)
- ঢাকা বনাম রাজশাহী: ২৩ বল হাতে রেখেই জয়-দেখুন ফলাফল
- চলছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স বনাম ঢাকা ক্যাপিটালসের খেলা-সরাসরি দেখুন (LIVE)
- চিকিৎসা জগতের আলোকবর্তিকা ডা. কোহিনূর আহমেদ আর নেই
- রাজশাহী ওয়ারিয়র্স বনাম চট্টগ্রাম রয়্যালস: খেলাটি সরাসরি দেখুন (LIVE)
- সিলেট টাইটানস বনাম রংপুর রাইডার্স- খেলাটি সরাসরি দেখুন (LIVE)
- শেয়ারবাজার স্থিতিশীলতায় বড় পদক্ষেপ নিল বিএসইসি
- ডিভিডেন্ড পেতে হলে নজর রাখুন ২ কোম্পানির রেকর্ড ডেটে
- নির্বাচনের পর বাজার আরও স্থিতিশীল হবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের
- বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের শ্রদ্ধা
- মিশ্র সূচকের মধ্যেও বাজারে আশাবাদ অব্যাহত
- মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজের লোকসানের পাল্লা আরও ভারী হলো
- সাপ্তাহিক লেনদেন বৃদ্ধিতে শীর্ষে ৬ বড় খাত
- ডিভিডেন্ড অনুমোদনে সপ্তাহজুড়ে ৩ কোম্পানিরএজিএম
- প্রত্যাশার বাজারে সূচকের উত্থান অব্যাহত