ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি ২০২৬, ২১ পৌষ ১৪৩২

প্রার্থীতা ফেরত পেতে যেসব নির্দেশনা দিল ইসি

২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ২২:০৭:৫৯

প্রার্থীতা ফেরত পেতে যেসব নির্দেশনা দিল ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে একাধিক প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শুধু রাজধানী ঢাকার ১৩টি সংসদীয় আসনেই ৫৪ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত এসেছে। এর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন আসনেও বহু প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

তবে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীদের জন্য প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার সুযোগ রেখেছে নির্বাচন কমিশন। ইসি জানায়, আগামী ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীদের অবশ্যই নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত ৭ দফা নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। এসব নির্দেশনা আগেই রিটার্নিং কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রার্থীদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত নির্দেশনা অনুযায়ী,

১) আপিল আবেদন কমিশনকে সম্বোধন করে স্মারকলিপি আকারে (নির্ধারিত ফরমেটে) জমা দিতে হবে।

২) আপিল দায়েরকালে মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের তারিখ, আপিলের কারণ সংবলিত বিবৃতি এবং মনোনয়নপত্র বাতিল বা গ্রহণ আদেশের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে।

৩) আপিল আবেদনের একটি মূল কপিসহ মোট ৭টি কপি জমা করতে হবে।

৪) আপিল আবেদন নির্বাচন কমিশনের আপিল আবেদন গ্রহণসংক্রান্ত কেন্দ্রে স্ব স্ব অঞ্চলের নির্ধারিত বুথে জমা দিতে হবে।

৫) আগামী ৫ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে আপিল আবেদন দায়ের করতে হবে।

৬) আপিল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত বা রায়ের কপির জন্য নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ফরমের নমুনা নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়ের সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় বুথ থেকে সংগ্রহ করা যাবে।

৭) আপিল দায়েরকারী অথবা আপিল দায়েরকারীর পক্ষে মনোনীত ব্যক্তি আপিলের রায়ের কপি সংগ্রহ করতে পারবেন।

আপিল আবেদন জমা দিতে হবে নির্বাচন কমিশনের আপিল গ্রহণসংক্রান্ত কেন্দ্রে, নিজ নিজ অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত বুথে। ৫ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে নির্ধারিত সময়ের বাইরে কোনো আপিল গ্রহণ করা হবে না। আপিল কর্তৃপক্ষের রায়ের কপি পেতে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে, যা নির্বাচন ভবনের আপিল বুথ থেকেই সংগ্রহ করা যাবে। আবেদনকারী নিজে অথবা তার মনোনীত প্রতিনিধি রায়ের কপি সংগ্রহ করতে পারবেন।

এ জন্য রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে মোট ১০টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে বুথ-১ (খুলনা অঞ্চল) থেকে মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার আপিল গ্রহণ করা হবে। বুথ-২ (রাজশাহী অঞ্চল) এ জয়পুরহাট, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, রাজশাহী, নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনার প্রার্থীরা আপিল করতে পারবেন।

এছাড়া বুথ-৩ (রংপুর অঞ্চল) এ পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা; বুথ-৪ (চট্টগ্রাম অঞ্চল) এ চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের প্রার্থীদের আপিল গ্রহণ করা হবে।

অন্যদিকে বুথ-৫ (কুমিল্লা অঞ্চল) এ ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর; বুথ-৬ (সিলেট অঞ্চল) এ সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ; এবং বুথ-৭ (ঢাকা অঞ্চল) এ টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রার্থীরা আপিল করবেন।

এছাড়াও বুথ-৮ (ময়মনসিংহ অঞ্চল) এ জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা; বুথ-৯ (বরিশাল অঞ্চল) এ বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর এবং বুথ-১০ (ফরিদপুর অঞ্চল) এ রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার প্রার্থীদের আপিল গ্রহণ করা হবে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত