ঢাকা, শুক্রবার, ২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২

হলফনামার ১০ তথ্য প্রচারে ইসির কড়া নির্দেশ

২০২৬ জানুয়ারি ০২ ১৪:৪৭:৪২

হলফনামার ১০ তথ্য প্রচারে ইসির কড়া নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রার্থীদের হলফনামা যাচাই ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এএমএম নাসির উদ্দীনের নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিশন নির্বাচনি আইনে উল্লেখযোগ্য সংস্কার এনেছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, হলফনামায় অসত্য তথ্য দিলে কেবল প্রার্থিতা বাতিল নয়, বরং ভোটের পরও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হলফনামার ১০টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

ইসি নির্ধারিত ১০টি তথ্য প্রার্থীদের হলফনামায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। এছাড়া এই তথ্য ভোটারদের মধ্যে প্রচারের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:

১. প্রার্থীর জন্ম তারিখ ও বর্তমান বয়স।

২. সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ (যদি না থাকে, নম্বরপত্র বা স্বাক্ষরজ্ঞানের তথ্য)।

৩. প্রার্থীর বিরুদ্ধে চলমান কোনো ফৌজদারি মামলার বিবরণ।

৪. অতীতে কোনো ফৌজদারি মামলা থাকলে তার রেকর্ড ও রায়ের তথ্য।

৫. প্রার্থীর বর্তমান পেশার বিস্তারিত বিবরণ।

৬. প্রার্থীর ওপর নির্ভরশীলদের পেশার তালিকা।

৭. প্রার্থী ও তার নির্ভরশীলদের দেশে-বিদেশে আয়ের উৎস (আয়কর রিটার্নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ)।

৮. প্রার্থী ও তার নির্ভরশীলদের দেশে-বিদেশে থাকা সম্পদ ও দায়ের বিবরণী।

৯. অতীতে সংসদ সদস্য হয়ে থাকলে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির বিপরীতে অর্জনের বিবরণ।

১০. ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে গৃহীত একক বা যৌথ ঋণের তথ্য।

সাধারণ মানুষও স্বচ্ছতায় সম্পৃক্ত

নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সাধারণ মানুষকেও কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করেছে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি প্রার্থীর প্রদত্ত তথ্যকে অসত্য বলে প্রমাণ করতে পারেন এবং দালিলিক প্রমাণাদি উপস্থাপন করেন, তবে এটি কাউন্টার এফিডেভিট হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়নপত্র যাচাইয়ের সময় এই এফিডেভিট গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন। এছাড়া প্রার্থী নিজেও ‘সম্পূরক এফিডেভিট’ দিতে পারবেন।

প্রচার ও তথ্য যাচাই প্রক্রিয়া

হলফনামার মূল কপি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সংরক্ষিত থাকবে এবং এক কপি নোটিশ বোর্ডে প্রদর্শন করা হবে। ভোটারদের সচেতন করতে হাট-বাজার ও জনসমাগম স্থানে লিফলেট বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ৩০০ আসনে প্রায় ২ হাজার ৫ শতজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার পর ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। এবার তথ্য যাচাই প্রক্রিয়ায় ব্যাংক কর্মকর্তা, পুলিশ ও রাজস্ব কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে, যাতে কেউ অসত্য তথ্য দিয়ে প্রার্থিতা পেতে না পারে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত