ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
'গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ'-এর চূড়ান্ত অনুমোদন দিল সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক: গুম হওয়া কোনো ব্যক্তি যদি অন্তত ৫ বছর নিখোঁজ থাকেন এবং জীবিত ফিরে না আসেন, তবে ট্রাইব্যুনাল তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গুম’ বা ‘ডিসাপিয়ার্ড’ ঘোষণা করতে পারবে। একইসঙ্গে গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী বা তার ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যরা কমিশনের পূর্বানুমতি ছাড়াই ওই ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহার করতে পারবেন। এমন বিধান রেখে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫’-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে গুম প্রতিরোধ ছাড়াও হাওর রক্ষা এবং সুইজারল্যান্ডে নতুন দূতাবাস স্থাপনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
অনুমোদিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সরকার মানবাধিকার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইব্যুনাল’-এর জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ দিতে পারবে। এছাড়া ভুক্তভোগী বা অভিযোগকারী চাইলে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ট্রাইব্যুনালে আইনজীবী নিয়োগ করতে পারবেন। দীর্ঘ ৫ বছর নিখোঁজ থাকার পর আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গুম’ ঘোষণার বিধান ভুক্তভোগী পরিবারের আইনি ও সম্পত্তি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে সহায়ক হবে বলে মনে করছে সরকার।
বৈঠকে ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ ২০২৫’-এর খসড়ারও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। হাওর এলাকার জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। এতে হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্তৃত্ব সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, বিষ ও কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কার্যক্রমকে এই আইনের আওতায় ‘অপরাধ’ হিসেবে গণ্য করে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া সংরক্ষিত হাওর এলাকা ঘোষণার বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।
সুইজারল্যান্ডের রাজধানী বার্নে বাংলাদেশের নতুন একটি দূতাবাস স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ। বর্তমানে জেনেভাতে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন থাকলেও রাজধানীর বার্নে কোনো দূতাবাস ছিল না। সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হওয়ায় এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একজন রাষ্ট্রদূতসহ প্রয়োজনীয় জনবল দিয়ে এই দূতাবাসের কার্যক্রম শুরু হবে।
বৈঠকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। জানানো হয়, হাদির অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন। তার চিকিৎসার বিষয়ে সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান নিয়মিত প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এছাড়া বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সিঙ্গাপুরে অবস্থান করে হাদির চিকিৎসার তদারকি করছেন।
বৈঠক শেষে মহান বিজয় দিবস সুন্দরভাবে উদযাপনের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানায় উপদেষ্টা পরিষদ।
এসপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা
- চলতি মাসে টানা চার দিনের ছুটির সুযোগ
- শুধু আইফোনের জন্য নয়, অপ্রতীম হ/ত্যার পেছনে ছিল বিরোধও
- পাভেলকে ঘিরে ফের ভাইরাল পাঁচ মিনিটের ভিডিও
- একাদশ শ্রেণির ভর্তির ফল প্রকাশ আজ, যেভাবে দেখবেন
- মব হেনস্তার প্রতিবাদে ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান তাহসিনের
- মিছিলের প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৮ কর্মী আটক
- সিগারেট নিয়ে নতুন বিধান জারি
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি আবেদনের সময় বাড়ল
- নতুন পে স্কেলে কোন গ্রেডে কত বেতন, দেখুন এখানে
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ, আবেদন ১২ অক্টোবর পর্যন্ত
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৫ সেপ্টেম্বর)
- আরও ৯০ দিন মেয়াদ বাড়ল ডাকসুর
- পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে যা জানা গেল
- পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে যা বলছেন কর্মকর্তারা