ঢাকা, সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২
রাজধানীর ভূমিকম্প ঝুঁকি: লাখো ভবন ধসের সতর্কবার্তা বিশেষজ্ঞদের
পার্থ হক
রিপোর্টার
পার্থ হক: বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, রাজধানী ঢাকা এখন যে কোনো প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পের চাপ সহ্য করার সক্ষমতা রাখে না। নিয়ন্ত্রণহীন নগরায়ন, অনুমোদনবিহীন ভবন এবং দুর্বল অবকাঠামোর কারণে শহরটি একটি ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ না নিলে বৃহৎ ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির সম্ভাবনা ব্যাপক।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) পরিচালিত ‘আরবান রেজিলিয়েন্স প্রজেক্ট’-এর জরিপ অনুযায়ী, যদি মধুপুর ফল্ট (টাঙ্গাইল) থেকে ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে, ঢাকার লাখ লাখ ভবন ধ্বংসের ঝুঁকিতে থাকবে। বিশেষজ্ঞরা জানান, এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির মূল কারণ হলো অধিকাংশ ভবনের নির্মাণে জাতীয় ভবন নির্মাণ কোডের অবহেলা এবং অনুমোদন ছাড়া নির্মাণ।
রাজউকের হিসাব অনুযায়ী, ঢাকায় বর্তমানে ২১ লাখ ৪৫ হাজার ভবন রয়েছে, যার ৯৫ শতাংশই অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মিত। ড্যাপ অনুযায়ী ২০০৬-২০১৬ সালের মধ্যে প্রতি বছর গড়ে ৯৫ হাজার নতুন ভবন নির্মিত হয়েছে, অথচ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে মাত্র ৪ হাজার ১৪৭টি ভবনের। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদন ব্যতিরেকে স্থাপনা মাথা উঁচু করেছে, তবে চলতি বছর রাজউক ৩ হাজার ৩৮২টি অবৈধ ভবন চিহ্নিত করে অভিযান চালাচ্ছে।
ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে অপরিকল্পিত বহুতল, সরু রাস্তাগুলি, মানদণ্ড লঙ্ঘন করা ভবন ও মাটির দুর্বলতা। বিশেষজ্ঞরা জানান, ৫.৭ মাত্রার সাম্প্রতিক কম্পনে ১৪টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে বিপুল প্রাণহানি ও ধ্বংসের সম্ভাবনা থাকবে।
নগর পরিকল্পনাবিদরা জরুরি পদক্ষেপের পরামর্শ দিচ্ছেন। বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে অনুসরণ, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের উচ্ছেদ, নিম্নাঞ্চলে নির্মাণ নিষেধাজ্ঞা এবং নিরাপদ আশ্রয়স্থল নিশ্চিত করার জন্য রাজউক ও অন্যান্য সংস্থাকে ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া, আরবান সেফটি অ্যান্ড রেজিলেন্স ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে যাতে ভবন পরীক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
সরকার সম্প্রতি ড্যাপ সংশোধন অনুমোদন করেছে। ঢাকাকে ৬৮টি ব্লকে বিভক্ত করা হয়েছে, বহুতল নির্মাণের শর্ত ও ফ্লোর এরিয়া রেশিও বাড়ানো হয়েছে, এবং বড় জমিতে বাধ্যতামূলক এসটিপি স্থাপনের নিয়ম করা হয়েছে।
ঢাকার ভূমিকম্প ইতিহাসও সতর্কবার্তা দিচ্ছে। গত ১৫ বছরে ঢাকা নিকট ফরিদপুরে দুইবার ৪-এর বেশি মাত্রার কম্পন নথিভুক্ত হয়েছে। ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে নারায়ণগঞ্জে ৫.১ মাত্রার কম্পন হয়েছিল, আর ১৮৮৫ সালের মানিকগঞ্জে রিখটার স্কেলে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে ধ্বংসের ইতিহাস রয়েছে। সবশেষ শুক্রবার নরসিংদীর মাধবদীতে ৫.৭ মাত্রার কম্পন ধরা পড়ে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- চলছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স বনাম সিলেট টাইটান্সের ম্যাচ-দেখুন সরাসরি (LIVE)
- শেয়ারবাজার স্থিতিশীলতায় বড় পদক্ষেপ নিল বিএসইসি
- রাজশাহী বনাম চট্টগ্রাম: ৯০ রানে নেই ৭ উইকেট-দেখুন সরাসরি (LIVE)
- বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের শ্রদ্ধা
- ঢাকা ক্যাপিটালস বনাম রংপুর রাইডার্স: জমজমাট খেলাটি চলছে-দেখুন সরাসরি
- শেয়ারবাজার আধুনিকীকরণে বিএসইসির গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ
- মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজের লোকসানের পাল্লা আরও ভারী হলো
- রাজশাহী বনাম সিলেটের জমজমাট ম্যাচটি শেষ-দেখুন ফলাফল
- প্রত্যাশার বাজারে সূচকের উত্থান অব্যাহত
- ১০ লাখ শেয়ার কেনার ঘোষণা দিলেন কোম্পানির পরিচালক
- ২৫ লাখ শেয়ার হস্তান্তরের ঘোষণা উদ্যোক্তা পরিচালকের
- স্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতিতে লেনদেন, ডিএসইতে সূচকের শক্ত অবস্থান
- সূচক কমলেও স্বস্তিতে বাজার, লেনদেন বেড়েছে
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৩ জানুয়ারি)
- রংপুর রাইডার্স বনাম ঢাকা ক্যাপিটালসের জমজমাট খেলাটি শেষ-জানুন ফলাফল