ঢাকা, রবিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২
নির্ভুলভাবে ভূমিকম্পের তথ্য কোথায় পাওয়া যায় আগে?
সরকার ফারাবী: রাত গভীর, পুরো শহর ঘুমে আচ্ছন্ন। ঠিক সেই মুহূর্তে হঠাৎই ধাক্কা মাটি দুলে ওঠে, দেয়াল কেঁপে ওঠে, জানালা কাঁপে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই মানুষ ছুটে যায় স্মার্টফোনের দিকে। ভয়ের সঙ্গে তাদের মনে একটাই প্রশ্ন ভেসে ওঠে ‘ভূমিকম্পটা আসলে কত শক্তিশালী ছিল?’
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বেশিরভাগ মানুষ দ্রুতই তিনটি উৎসে নজর দেয় ইউরোপের ইএমএসসি, যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসজিএস, আর বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি)। তিন প্রতিষ্ঠান, তিন ধরনের প্রযুক্তি ও দর্শন; কিন্তু লক্ষ্য একই সবচেয়ে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ভূমিকম্প তথ্য পৌঁছে দেওয়া।
ইএমএসসি: মানুষের অনলাইন আচরণই তাদের অ্যালার্ম সিস্টেম
তিনটির মধ্যে সবচেয়ে ত্বরিত সতর্কতাদাতা হলো প্যারিসভিত্তিক ইএমএসসি। সেন্সরের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে তারা কাজে লাগায় মানুষের আচরণ। ভূমিকম্প লাগামাত্র কোনো এলাকার সার্চ, লাস্টকোয়েক অ্যাপ ব্যবহারের পরিমাণ, সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট হঠাৎ বেড়ে যায় এই অস্বাভাবিক ট্রাফিকই ইএমএসসিকে সংকেত দেয় কম্পনের।
সেন্সর ডেটা বিশ্লেষণ শেষ হওয়ার আগেই তারা গড়ে দুই মিনিটের কম সময়ে সতর্কবার্তা পাঠাতে পারে। তাদের বিশ্বাস মানুষই প্রথম "সেন্সর"। ব্যবহারকারীর পাঠানো ছবি, ভিডিও ও অভিজ্ঞতা তাদের ডেটাকে আরও সমৃদ্ধ করে।
ইউএসজিএস: গতি নয়, বিশ্বমানের বৈজ্ঞানিক নির্ভুলতা
অপরদিকে, ১৮৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউএসজিএস বেশি গুরুত্ব দেয় সঠিক বিশ্লেষণে। বিশ্বব্যাপী ভূমিকম্প তথ্যের "গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড" বলে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠান।
তাদের শেক-ম্যাপ প্রযুক্তি জানায় কোন এলাকায় কতটুকু কাঁপন অনুভূত হয়েছে। আর পেজার সিস্টেম সম্ভাব্য প্রাণহানি ও আর্থিক ক্ষতির প্রাথমিক পূর্বাভাস দেয় সবুজ থেকে লাল পর্যন্ত রঙ কোড করে। লাল মানে সম্ভাব্য বিপর্যয় বিলিয়ন ডলার ক্ষতির ইঙ্গিত।
আন্তর্জাতিক উদ্ধার সংস্থা, জাতিসংঘ এবং প্রকৌশলীরা তাদের তথ্যকে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য হিসেবে ব্যবহার করে।
বিএমডি: বাংলাদেশের ভূমিকম্প তথ্যের সরকারি প্রহরী
বৈশ্বিক দুই প্রতিষ্ঠান থাকলেও বাংলাদেশের নিজস্ব সরকারি ভরসা হলো বিএমডি।
১৯৫৪ সালে চট্টগ্রামে প্রথম মানমন্দির স্থাপনের মাধ্যমে তাদের যাত্রা শুরু। সময়ের সঙ্গে তারা অ্যানালগ সিস্টেম থেকে ডিজিটাল সিসমিক প্রযুক্তিতে উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে আগারগাঁও, সিলেট, রংপুর এবং গাজীপুরে রয়েছে তাদের সিসমিক অবজারভেটরি নেটওয়ার্ক।
তারা দেশের সিসমিক জোন ম্যাপ তৈরি ও ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড হালনাগাদেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভূমিকম্প সংক্রান্ত সরকারি তথ্য প্রকাশের দায়িত্বও তাদের।
তিন প্রতিষ্ঠানের তথ্যই পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তার বৃত্ত
ইএমএসসির দ্রুত সতর্কতা, ইউএসজিএসের নির্ভুল বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ এবং বিএমডির সরকারি নিশ্চয়তা এই তিনটিই মিলে তৈরি করে ভূমিকম্প তথ্যের নিরাপত্তাবলয়।
কম্পন থেমে যাওয়ার পরপরই স্মার্টফোনের স্ক্রিন জ্বলে উঠলে মানুষ তিন উৎসেই ছুটে যায়। কারণ তা কেবল অভ্যাস নয় নিজের নিরাপত্তার জন্যই।
ভূমিকম্প কখনো পূর্বাভাস দিয়ে আসে না, কিন্তু তথ্য আসে যদি তিন দিকেই আমাদের কান খোলা থাকে।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাকা ক্যাপিটালস বনাম সিলেট টাইটান্স: বোলিংয়ে ঢাকা-দেখুন সরাসরি (LIVE)
- নোয়াখালী এক্সপ্রেস বনাম রংপুর রাইডার্স: ম্যাচটি সরাসরি দেখুন (LIVE)
- চট্টগ্রাম বনাম রংপুরের ম্যাচটি শেষ: জানুন ফলাফল
- সিলেট বনাম চট্টগ্রামের খেলা চলছে: ম্যাচটি সরাসরি দেখুন( LIVE)
- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
- ঢাকা ক্যাপিটালস বনাম নোয়াখালী এক্সপ্রেসের খেলা শেষ-দেখুন ফলাফল
- নোয়াখালী বনাম রাজশাহী: জমজমাট খেলাটি শেষ-জানুন ফলাফল
- নোয়াখালী এক্সপ্রেস বনাম ঢাকা ক্যাপিটালস: খেলাটি সরাসরি দেখুন (LIVE)
- ঢাকা ক্যাপিটালস-সিলেট টাইটান্সের জমজমাট খেলা শেষ-দেখুন ফলাফল
- ঢাবি ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের ফল প্রকাশ, প্রথম হলেন যারা
- নোয়াখালী বনাম সিলেটের জমজমাট ম্যাচটি শেষ: দেখে নিন ফলাফল
- চলছে সিলেট বনাম নোয়াখালীর ম্যাচ: খেলাটি সরাসরি দেখুন (LIVE)
- দীর্ঘ সংকট কাটাতে বাজারে ১০ শক্তিশালী কোম্পানি আনছে সরকার
- রাজশাহী ওয়ারিয়র্স বনাম চট্টগ্রাম রয়্যালস: খেলাটি সরাসরি দেখুন (LIVE)
- শেয়ারবাজারে নতুন নামে আসছে তালিকাভুক্ত কোম্পানি