ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩

বাজারে 'জেড' ক্যাটাগরির দাপট: ‘বন্ধ’ কোম্পানির শেয়ারে দাম বেড়েছে ৫২ শতাংশ

২০২৫ নভেম্বর ২৩ ১৯:০১:২৭

বাজারে 'জেড' ক্যাটাগরির দাপট: ‘বন্ধ’ কোম্পানির শেয়ারে দাম বেড়েছে ৫২ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে গত সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের আচরণ ছিল যেন মূলভিত্তির বাইরে এক ধরনের আগ্রাসী জল্পনা-কল্পনার প্রতিফলন। মনে হচ্ছিল যেন কোম্পানিগুলোর আসল দাম বা লাভ-ক্ষতির হিসেব কারো কাছেই গুরুত্বপূর্ণ নয়। তার বদলে, দুর্বল পারফরম্যান্স করা কোম্পানিগুলোর শেয়ার নিয়ে চলল দেদার কেনাবেচা।

সপ্তাহের শেষে প্রধান সূচকগুলো ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও সবচেয়ে বেশি লাভের তালিকা দখল করেছে মূলত ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলো—যারা সাধারণত ডিভিডেন্ড দেয় না, আর্থিকভাবে দুর্বল কিংবা যাদের নিয়মিত কার্যক্রম নেই। বিশ্লেষকদের মতে, বাজার এখন দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের বদলে গুজবনির্ভর ফাটকাবাজির ওপর দাঁড়িয়ে চলছে।

ইবিএল সিকিউরিটিজের সাপ্তাহিক বাজার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৬–২০ নভেম্বর সপ্তাহজুড়ে লোকসানে থাকা শেয়ারগুলোই সবচেয়ে বেশি লাভ দিয়েছে। সবচেয়ে তেজি ছিল খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং—যে কোম্পানি এখন কার্যত বন্ধ। মাত্র পাঁচ দিনে এর শেয়ারের দাম বেড়েছে প্রায় ৫২ শতাংশ।

এরপরই রয়েছে আর্থিক সংকটে থাকা ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (আইএলএফএসএল) এবং বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)। এদের শেয়ার যথাক্রমে ৫০.৬৮ শতাংশ ও ৫০ শতাংশ লাফিয়ে উঠেছে। ৫০ শতাংশ লাভ নিয়ে ন্যাশনাল ব্যাংকও এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির দৌড়ে শামিল হয়েছে।

এ ছাড়া ফারইস্ট ফিন্যান্স, পিপলস লিজিং, মাকসন্স স্পিনিং, নুরানি ডাইং ও হামিদ ফ্যাব্রিক্সের মতো দুর্বল কোম্পানিগুলোর শেয়ার ৪০–৪৭ শতাংশ পর্যন্ত লাভ করেছে।

তবে বাজারের সামগ্রিক চিত্র ছিল ইতিবাচক। ডিএসইএক্স (DSEX) সূচক ১৬৬ পয়েন্ট বা ৩.৫৪ শতাংশ বেড়ে ৪,৮৬৯ পয়েন্টে পৌঁছেছে। ডিএস৩০ (DS30) সূচক ২৬ পয়েন্ট বেড়ে ১,৮৭৭ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছে। ডিএসই এসএমই (DSMEX) সূচক মূল বোর্ডের তুলনায় আরও শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়ে ১৩.১৩ শতাংশ বেড়ে ৮২৪ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে।

বাজার মূলধন বেড়েছে ৭,৮০০ কোটি টাকা এবং দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ১২ শতাংশ—যা বাজারে তারল্য বৃদ্ধির ইঙ্গিত। সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হওয়া ৩৪৭টির দাম বেড়েছে, কমেছে মাত্র ১৮টির।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারদর অনেকটা কমে যাওয়ায় ‘বার্গেইন হান্টার’ বা কম দামে ভালো শেয়ার খুঁজে কেনা বিনিয়োগকারীরা বাজারে সক্রিয় হয়েছেন। এছাড়া নতুন মার্জিন রুলস-এ শিথিলতার সম্ভাবনা নিয়ে গুজব বিনিয়োগকারীদের আরও আগ্রহী করেছে।

তারপরও ব্রোকারেজ হাউসগুলো সতর্ক করে বলছে, বড় বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এখনো বাজারে পুরোপুরি ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না। বাজারের দিকনির্দেশনা অনিশ্চিত থাকায় ফাটকাবাজির খেলা মূলত খুচরা বিনিয়োগকারীদের হাতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত