ঢাকা, বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
এক রায়ে বদলে গেল দেশের রাজনীতি
মো: আবু তাহের নয়ন: বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রধান শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়কে ঘিরে। রায় ঘোষণার পর দেশজুড়ে নানামুখী প্রতিক্রিয়া, বিশ্লেষণ ও রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ চলতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ রায় রাজনৈতিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
গত বছরের জুলাই–আগস্টের ঘটনাবলির প্রেক্ষিতে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সোমবার (১৭ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। একই মামলায় তাঁর মন্ত্রিসভার সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মাত্র চার মাস সাত দিনের বিচারপ্রক্রিয়া শেষে এ রায় ঘোষণার পর আওয়ামী লীগ তা প্রত্যাখ্যান করে। শেখ হাসিনা রায়টিকে "রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পক্ষপাতদুষ্ট" অভিহিত করেন। রায় নিয়ে জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ না করার বিষয়টি প্রশ্ন তুলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, রায়টি দেশের রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও গভীর করতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ মনে করেন, রায়ে কোনো প্রক্রিয়াগত দুর্বলতা থাকলে আওয়ামী লীগ ও বিরোধী শক্তির মধ্যে সম্পর্ক আরও উত্তেজনাপূর্ণ হবে। তাঁর মতে, বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে অনাস্থা থাকলে বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও তীব্র রূপ নেবে এবং অস্থিরতা বাড়বে।
গত বছর আইনে আনা সংশোধনী অনুযায়ী, মানবতাবিরোধী অপরাধে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠিত হলে তিনি কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। ফলে শেখ হাসিনা ও কামালের পাশাপাশি যেসব নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে, তারাও নির্বাচনের বাইরে থাকবেন। ফলে দল হিসেবে নিষিদ্ধ অবস্থায় থাকা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক শক্তি আরও দুর্বল হবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
জোবায়দা নাসরীনসহ কয়েকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনার রায়কে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন, রাশিয়া—এই শক্তিগুলোর অবস্থান রাজনীতির ভবিষ্যৎ চিত্র নির্ধারণ করতে পারে। বিশেষত ভারতের অবস্থান পরিবর্তিত হলে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।
অন্যদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম মনে করেন, এই রায় শেখ হাসিনার ভারতের মাটিতে বসে রাজনীতি পরিচালনার সম্ভাবনাকেও সীমিত করবে। তাঁর মতে, রায়টি ভারতের জন্যও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যা তাদের কূটনৈতিক অবস্থানেও প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি আরও বলেন, রায় ঘোষণার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে গেল এবং শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জনও কার্যত শেষ হয়ে গেছে। মৃত্যুদণ্ডের রায় থাকায় তিনি দ্রুত দেশে ফিরে বিচার অথবা রাজনৈতিক সক্রিয়তা চালানোর সুযোগ পাচ্ছেন না।
সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষকদের অভিমত—এই রায় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও দুর্বল করবে, আর বিরোধী শক্তিকে নৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করবে। দেশের রাজনীতিতে নতুন এক মেরুকরণের সূচনা হয়েছে, যা আগামী নির্বাচনের আগে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
ডুয়া/নয়ন
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- পর্নোগ্রাফি মামলায় ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া গ্রেফতার
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে মাইগ্রেশনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ জয়ী
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৩ আগস্ট)
- খণ্ডকালীন শিক্ষক নেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, জানুন আবেদনপদ্ধতি
- নতুন পে-স্কেলে বড় পরিবর্তন, যেভাবে বাস্তবায়ন হবে বেতন-ভাতা
- এইচএসসি পাসে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে চাকরির সুযোগ
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির মাইগ্রেশন ভোটের সময় বাড়ল
- শিক্ষকদের পদোন্নতি পারফরম্যান্স অ্যাসেসমেন্টের মাধ্যমে দেওয়া হবে: ববি হাজ্জাজ
- জানুয়ারিতে ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তন
- শুরু হচ্ছে মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি আবেদন
- আব্দুস সালাম তালুকদারের মৃত্যুবার্ষিকীতে মির্জা ফখরুলের শ্রদ্ধা
- মেয়েরা বাস কেন চালাতে পারবে না: বর্ষা
- পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সুখবর দিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়
- স্বামীর মৃ'ত্যুতে দীপু মনিকে প্যারোলে মুক্তির আবেদন
- শুক্রবার ঢাকার যেসব মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ