ঢাকা, রবিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২

সাধারণ বিমায় অনিয়ম ঠেকাতে কাঠামোগত পরিবর্তন

২০২৬ জানুয়ারি ১১ ১৬:০৬:০৯

সাধারণ বিমায় অনিয়ম ঠেকাতে কাঠামোগত পরিবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের সাধারণ বীমা (নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স) খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে আমূল পরিবর্তন এনেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। চলতি মাস থেকেই এই খাতে এজেন্ট কমিশন পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে কার্যত নন-লাইফ বীমা থেকে এজেন্ট প্রথার বিলুপ্তি ঘটল। গত বুধবার আইডিআরএ এই সিদ্ধান্তের কথা পুনর্ব্যক্ত করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে। নতুন এই নির্দেশনার ফলে দেশের ৪৫টি সাধারণ বীমা কোম্পানির কোনোটিই এখন থেকে প্রিমিয়াম সংগ্রহের জন্য আর কোনো এজেন্ট নিয়োগ করতে পারবে না।

আইডিআরএ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলো যে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিল, তা নিরসনেই এজেন্ট লাইসেন্স বাতিলের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে কোম্পানিগুলো এজেন্টদের কোনো ধরনের কমিশন প্রদান করতে পারবে না। যদি কোনো কোম্পানি এই নির্দেশনা অমান্য করে বা কোনোভাবে কমিশন দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

উন্নত দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের বীমা খাতের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। বিশ্বজুড়ে সাধারণত জীবন বীমার চেয়ে সাধারণ বীমা খাতের আকার বড় হয়। আইডিআরএ-র ২০২৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী মোট বীমা প্রিমিয়ামের ৫৯.৮০ শতাংশ ছিল সাধারণ বীমা খাতের। বিপরীতে বাংলাদেশে এর উল্টো চিত্র দেখা যায়। ২০২৩ সালে বাংলাদেশে জীবন বীমা খাতে ১২৩ বিলিয়ন টাকা প্রিমিয়াম সংগৃহীত হলেও সাধারণ বীমা খাতে এর পরিমাণ ছিল মাত্র ৬০ বিলিয়ন টাকা। এই ছোট বাজার দখলের জন্য কোম্পানিগুলো অনৈতিকভাবে উচ্চ হারে এজেন্ট কমিশন দিয়ে আসছিল বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।

বীমা বিশেষজ্ঞ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতে, এই অনিয়ন্ত্রিত কমিশন এবং ডিসকাউন্ট দেওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতার কারণেই বাংলাদেশে বীমা দাবি নিষ্পত্তির হার অত্যন্ত কম। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশের সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলো তাদের মোট দাবির মাত্র ৩৫.৫৪ শতাংশ নিষ্পত্তি করতে পেরেছে। অতিরিক্ত কমিশন দেওয়ার ফলে কোম্পানিগুলোর আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে, যার প্রভাব পড়ে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর।

আইডিআরএ-র এই হস্তক্ষেপকে বাংলাদেশের সাধারণ বীমা খাতের একটি 'স্ট্রাকচারাল রিসেট' বা কাঠামোগত সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও এই পরিবর্তনের ফলে কমিশন-নির্ভর কোম্পানিগুলো সাময়িকভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি একটি সুশৃঙ্খল, টেকসই এবং গ্রাহকবান্ধব বীমা বাজার গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। বীমা খাতের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং গ্রাহকদের সুরক্ষা দিতেই এই সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত