ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ধনী দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রতারণা ‘নেট জিরো কার্বন এমিশন’: প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা
নিজস্ব প্রতিবেদক: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার ‘নেট জিরো কার্বন এমিশন’ ধারণাকে ধনী দেশগুলোর নতুন অর্থনৈতিক প্রতারণা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ধনী দেশগুলো আসলে কার্বন নির্গমন কমাতে চায় না বরং ‘নেট জিরো’ ধারণার আড়ালে তারা নতুন প্রযুক্তি ব্যবসা ও করপোরেট মুনাফা বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে।
শনিবার (১ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মোজাফফর চৌধুরী অডিটোরিয়ামে কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত ‘ক্যাব যুব সংসদ–২০২৫’-এর সপ্তম সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ফরিদা আখতার বলেন, নেট জিরো আসলে ধনী দেশগুলোর নতুন প্রতারণামূলক প্রস্তাব। এটা নির্গমন কমানোর উদ্যোগ নয়; বরং নতুন প্রযুক্তি বিক্রির ব্যবসা। যেমন দারিদ্র্য সৃষ্টি করে আবার দারিদ্র্য নিরসনের ব্যবসাও তারা করে তেমনি কার্বন নিয়েও তারা ব্যবসা করছে।
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, নেট জিরো মানে একদিকে কার্বন ছাড়া, অন্যদিকে কার্বন কমানোর প্রযুক্তি বিক্রি করা। এর মধ্য দিয়ে তারা এক ধরনের ‘টেকনোলজিক্যাল ব্যবসা’ চালিয়ে যাচ্ছে। ধনী দেশগুলো পরিবেশ নয়, নিজেদের অর্থনৈতিক প্রভাব টিকিয়ে রাখতেই এ ধারণা প্রচার করছে।
দেশের বাস্তব পরিস্থিতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা কার্বন নির্গমনের জন্য দায়ী নই বরং ভুক্তভোগী। তবুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েও নানা শর্ত মানতে হয়। ধনী দেশগুলো দায়িত্ব নিতে চায় না বরং নানাভাবে দায় এড়িয়ে চলে।
অর্থনৈতিক বৈষম্যের প্রসঙ্গে ফরিদা আখতার বলেন, দেশের খামারি ও মৎস্যচাষিদের বিদ্যুৎ বিলেও বৈষম্য রয়েছে। কৃষকেরা যে রেটে বিদ্যুৎ পায়, খামারিরা তা পায় না। তাদের শিল্প বা বাণিজ্যিক রেটে বিল দিতে হয় যা অন্যায়।
তিনি আরও বলেন, এই বৈষম্য দূর করতে সরকার কাজ করছে। আমরা চাই মৎস্য চাষিরাও কৃষকের মতো ভর্তুকিপ্রাপ্ত রেটে বিদ্যুৎ পাক। এতে বছরে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে, তবুও এটা করলে ছোট খামারিরা টিকে থাকবে।
বিদ্যুতের অপচয় ও নগর-গ্রামের বৈষম্য নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ঢাকায় অকারণে যত বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়, ততটাই ঘাটতি থাকে গ্রামের মানুষের ঘরে। রাঙামাটির মতো এলাকায় দিনে পাঁচ-ছয়বার লোডশেডিং হয়, অথচ পাশের পাওয়ার স্টেশন থেকেই শত শত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। অন্তত বিদ্যুৎ খাতে ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে উদ্যোগ নিতে হবে।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ডাকসুর জিএস ও ঢাবি শিবিরের সভাপতি এস এম ফরহাদ এবং ‘ক্যাব যুব সংসদ’-এর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাসহ অন্যান্যরা।
এসপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম ভারতের ফুটবল ম্যাচ: সরাসরি দেখুন (LIVE)
- ঢাবি অ্যালামনাই ইউকে শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা
- আজ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে মাদ্রাসা শিক্ষকদের পদযাত্রা
- আজ রাত ৮ টায় ভারত বনাম বাংলাদেশের ফুটবল ম্যাচ, কোথায় ও যেভাবে দেখবেন?
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিলেন ববি হাজ্জাজ
- ঢাবি ক্যাম্পাসে ববি হাজ্জাজকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
- ববি হাজ্জাজের বক্তব্যের বিরুদ্ধে মাঠে নামছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা
- ববি হাজ্জাজের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ ঢাবি শিক্ষক, বললেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় নয়
- মাসিক ফি দিয়ে ব্যবহার করতে হবে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম
- নতুন পে-স্কেলে কার বেতন কত বাড়তে পারে? আলোচনায় দুটি প্রস্তাব
- টাইমস হায়ার ও কিউএস র্যাঙ্কিংয়ে ঢাবির জয়জয়কার
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য ববি হাজ্জাজের
- পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই: ড. নিয়াজ আহমদ
- ঈদের চামড়া বিক্রিতে হতাশ বিক্রেতারা
- ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ কবে, জানালেন প্রতিমন্ত্রী