ঢাকা, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
'ইসির মেরুদণ্ড শক্ত না হলে নির্বাচন কঠিন হবে'
নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মেরুদণ্ড শক্ত না হলে সব কিছুই কঠিন হবে বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচনী সংলাপে অংশ নেওয়া বক্তারা। তারা বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের যদি মেরুদণ্ড থাকে, যদি সাহস থাকে তবেই তারা স্বাধীন হতে পারবে।
রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবনে শিক্ষাবিদ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বুদ্ধিজীবীদের অংশগ্রহণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচন কমিশনকে সাহসী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস সাবেক প্রধান বিচারপতি ও নির্বাচন কমিশনারদের পরিণতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "আপনারা সাবেক নির্বাচন কমিশনারদের পরিণতি দেখেছেন। তারা কিন্তু সেই সাহস ও মেরুদণ্ড দেখাতে পারেনি।" তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, "যদি মেরুদণ্ড থাকে, যদি সাহস থাকে তবেই স্বাধীন হতে পারবেন।"
সংলাপ থেকে বেরিয়ে রোবায়েত ফেরদৌস সাংবাদিকদের জানান, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার ক্ষেত্রে সরকার বা সরকারের কোনো উপদেষ্টা যদি বাধা তৈরি করে, তাহলে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হবে তা মিডিয়ার সামনে প্রকাশ করা। সরকারের কোন কোন লোক এবং কোন কোন নীতিমালা সুষ্ঠু নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করছে, সেটাও স্পষ্ট করতে ইসিকে বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, "সবচেয়ে দরকার হচ্ছে ইসির সাহস এবং মেরুদণ্ড।"
তিনি আরও বলেন, "নির্বাচনে মিডিয়ার একটা অবাধ বিচরণ যেন থাকে। ভোটকেন্দ্র থেকে শুরু করে ভোটারদের জায়গা থেকে শুরু করে, ইলেকশন ক্যাম্পেইনে সর্বত্র যেন মিডিয়ার একটা ভিজিলেন্স যেন তৈরি করতে পারে সেটা বলেছি। এর মধ্য দিয়ে একটা ট্রান্সপারেন্সি তৈরি হবে।"
সাংবাদিক ও কলামিস্ট সোহরাব হাসান বলেন, এতদিন দেখে এসেছি যে সরকার নির্বাচন কমিশনের ওপর খবরদারি করে। তিনি বলেন, "আমরা বলেছি, নির্বাচন কমিশনকে এই শক্তি অর্জন করতে হবে, এই সাহস অর্জন করতে হবে, যাতে সরকারকে খবরদারি করতে পারে। কারণ শুধু নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সুষ্ঠু, অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন করা সম্ভব নয়, যদি সরকার, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী সহযোগিতা না করে।"
সোহরাব হাসান রাজনৈতিক গণতন্ত্রায়নের পাশাপাশি অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়নের কথা বলেন, যাতে কালো টাকা ও পেশিশক্তির প্রভাব নির্বাচনে না থাকে। তিনি এটিকে নির্বাচন কমিশনের জন্য কঠিন পরীক্ষা উল্লেখ করে বলেন, "এই পরীক্ষায় জয়ী হলে সবাই অভিনন্দন জানাবে। আর জয়ী না হলে পূর্বসূরিদের কথা মনে রাখতে বলছি।"
নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক করে সোহরাব হাসান বলেন, নির্বাচন হয় জনগণের ক্ষমতায়নের জন্যই। নির্বাচনে জনগণ বাছাই করবে তাদের প্রতিনিধি কে হবেন। কিন্তু সেই বাছাইয়ের যদি সুযোগ না থাকে, যেমনটা আমরা ২০২৪, ২০১৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে দেখেছি, এই নির্বাচনেও সেই বাছাইয়ের ক্ষেত্রে যদি কোনো ব্যত্যয় ঘটে, তাহলে নির্বাচন কমিশনকে শুধু কঠিন অবস্থার মধ্যে পড়তে হবে না, আগামী নির্বাচন যথেষ্ট প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কিছু দল বাদ দিয়ে নির্বাচন করার প্রস্তুতি চলছে। একটি পক্ষকে নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়ার কথা চলছে। প্রধান উপদেষ্টা সেরা নির্বাচনের কথা বলেন, কিন্তু কাউকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করলে সেরা নির্বাচন কীভাবে হবে, সে বিষয়ে ইসিকে ভাবতে হবে।
ইসির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "আপনাদের নির্বাচন করার যেমন মানসিকতা থাকতে হবে তেমনি নির্বাচন না করার মানসিকতাও থাকতে হবে। আপনাদের বিবেচনায় যদি মনে করেন সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়, তাহলে নির্বাচন থেকে সরে আসা উচিত, আপনাদের পদত্যাগ করা উচিত।"
এসপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- তিন ছাত্রদল নেতাকে ষষ্ঠ গ্রেডে নিয়োগ দিল সরকার
- জাবিতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে কারাদণ্ড
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভর্তি আবেদনের সময়সূচি প্রকাশ
- শাবিপ্রবির নতুন ভিসি ড. খায়রুল ইসলাম
- রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প
- দেশে কমলো সোনার দাম, ভরি কত?
- আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ঢাবি শিক্ষার্থীদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন
- আজ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে মাদ্রাসা শিক্ষকদের পদযাত্রা
- সোমবার টানা ৯ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়
- ঢাবিতে মাদারীপুর সদর ছাত্র কল্যাণ সমিতির নতুন কমিটি ঘোষণা
- শোলাকিয়া থেকে জাতীয় ঈদগাহ কোথায় কখন ঈদের জামাত, জেনে নিন বিস্তারিত
- ৭ কোটি মানুষ চরম সংকটের মুখে রয়েছে: পানিসম্পদ মন্ত্রী
- কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিশ্ব সুসংবাদ শুনতে পারে: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিলেন ববি হাজ্জাজ
- জাল সনদে নিয়োগ: ৬৩ শিক্ষককে শোকজ মাউশির