ঢাকা, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২

শাপলা চত্বর গণহ'ত্যা মামলা: শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করল ট্রাইব্যুনাল

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ২০:৫৭:০৯

শাপলা চত্বর গণহ'ত্যা মামলা: শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করল ট্রাইব্যুনাল

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০১৩ সালের মে মাসে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত সেই বিভীষিকাময় রক্তপাতের নেপথ্য নায়কদের নাম অবশেষে জনসমক্ষে এসেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর এই বর্বরোচিত গণহত্যার প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে। প্রতিবেদনে এই নৃশংস অভিযানের মূল কারিগর ও নির্দেশদাতা হিসেবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম উঠে এসেছে।

তদন্ত সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, শাপলা চত্বরে সেই রাতের ভয়াবহ অভিযান ও হত্যাযজ্ঞের মূল পরিকল্পনা এবং নির্দেশ সরাসরি গণভবন থেকে এসেছিল। এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে শেখ হাসিনাকে মামলার এক নম্বর আসামি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এ ঘটনায় ৩০ জনেরও বেশি প্রভাবশালী ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। যাদের মধ্যে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু এবং আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

আসামিদের এই দীর্ঘ তালিকায় শুধু রাজনৈতিক নেতাই নন, তৎকালীন প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, যুবলীগ সভাপতি ওমর ফারুক, গণজাগরণ মঞ্চের নেতা ইমরান এইচ সরকার এবং শাহরিয়ার কবিরের নাম রয়েছে এই প্রতিবেদনে। এছাড়া পুলিশের সাবেক আইজি হাসান মাহমুদ খোন্দকার, শহিদুল হক, ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ, র্যাবের তৎকালীন ডিজি মোখলেস এবং আলোচিত সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানসহ আরও কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে।

ইতোমধ্যে এই আলোচিত মামলায় চারজন গুরুত্বপূর্ণ আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। তাঁরা হলেন—সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান এবং ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম। বর্তমানে তাঁরা কারাবন্দী রয়েছেন।

তবে ওই রাতের ঘটনায় দেশব্যাপী মোট কতজন মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন, তার কোনো চূড়ান্ত তালিকা এখনো প্রস্তুত করতে পারেনি তদন্ত সংস্থা। আপাতত মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’-এর ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের মৃতদের পরিসংখ্যান সম্বলিত রিপোর্টকে ভিত্তি করেই এই প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন সাজানো হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, যার জন্য তদন্ত এখনও অব্যাহত রয়েছে।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত