ঢাকা, রবিবার, ৩১ আগস্ট ২০২৫, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২
কারখানা ভাড়া দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা হামি ইন্ডাস্ট্রিজের

মোবারক হোসেন
সিনিয়র রিপোর্টার

মোবারক হোসেন: দীর্ঘ ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে লোকসানে থাকা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান হামি ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি এখন টিকে থাকার উপায় খুঁজছে। এর অংশ হিসেবে কোম্পানির চট্টগ্রামের পাহাড়তলীর কারখানার একটি অংশ ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পর্ষদ। নতুন ভাড়াটের কাছে জায়গাটি হস্তান্তরের মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান লোকসানের চাপ কিছুটা কমানোর আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে রবিবার (৩১ ডিসেম্বর) তথ্যটি জানিয়েছে হামি ইন্ডাস্ট্রিজ। চুক্তি অনুযায়ী, চট্টগ্রামের পাহাড়তলীর সাগরিকা সড়কে অবস্থিত ৩৫ হাজার বর্গফুট আয়তনের কারখানার মধ্যে ২ হাজার ৩৫০ বর্গফুট জায়গা ব্যবহার করবে সুইফট নেক্সাস কর্পোরেশন। ভাড়ার এই চুক্তি আগামী সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হবে, যার মেয়াদ নির্ধারিত হয়েছে ৮ মাস।
এটি হামি ইন্ডাস্ট্রিজের প্রথম উদ্যোগ নয়। এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসে একই কারখানার ৬ হাজার ৭২৫ বর্গফুট জায়গা ভাড়া দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। সেই চুক্তি হয়েছিল লুব্রিকেন্ট এশিয়া লিমিটেডের সঙ্গে, যা কার্যকর থাকবে ২ বছর। প্রতি বর্গফুটের ভাড়া নির্ধারিত হয় ২০ টাকা, ফলে মাসিক ভাড়া বাবদ কোম্পানিটি আয় করছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা।
কোম্পানিটি বহু বছর ধরেই মূল ব্যবসায় টিকে থাকতে ব্যর্থ হয়েছে। একসময় শিল্প খাতে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিনের লোকসানে কার্যক্রম সংকুচিত করে আনে। তার ওপর গত বছর কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আকস্মিক মৃত্যুবরণ করলে হামি ইন্ডাস্ট্রিজ আরও অনিশ্চয়তায় পড়ে যায়। দীর্ঘ লোকসানের কারণে কোম্পানির রিজার্ভ ঘাটতি এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে।
মাত্র সাড়ে ৭ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের এই কোম্পানির ৬৪ শতাংশের বেশি মালিকানা রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে। তবে ধারাবাহিক লোকসানের কারণে হামি ইন্ডাস্ট্রিজ বর্তমানে শেয়ারবাজারের জেড ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে। শেয়ারবাজারের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই কোম্পানিটিকে দীর্ঘদিন ধরে ‘কারসাজি আইটেম’ হিসেবে অভিহিত করে থাকেন।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কারখানার ভাড়া থেকে কিছু আয় হলেও এটি মূল ব্যবসার বিকল্প হতে পারে না। তবে ধারাবাহিক লোকসান ও রিজার্ভ ঘাটতি সামাল দিতে সাময়িকভাবে ভাড়ার এই উদ্যোগ কোম্পানির জন্য আর্থিক সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। মূল ব্যবসায় ফিরতে না পারলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন এবং স্থায়ী সমাধান পাওয়া কঠিন হবে বলে মনে করছেন তারা।
এএসএম/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- সম্ভাবনার নতুন দিগন্তে শেয়ারবাজারের খান ব্রাদার্স
- বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে শেয়ারবাজারের ১১ কোম্পানিতে
- মূলধন ঘাটতিতে দুই ব্রোকারেজ হাউজ, ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
- চলতি বছর শেয়ারবাজারে আসছে রাষ্ট্রায়াত্ব দুই প্রতিষ্ঠান
- মার্জারের সাফল্যে উজ্জ্বল ফার কেমিক্যাল
- সাকিবের মোনার্কসহ ৮ ব্রোকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
- তালিকাভুক্ত কোম্পানির ১৫ লাখ শেয়ার কেনার ঘোষণা
- বিমা আইন সংস্কার: বিনিয়োগ ও আস্থায় নতুন দিগন্ত
- শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর প্রথম ‘নো ডিভিডেন্ড’
- শেয়ারবাজারে রেকর্ড: বছরের সর্বোচ্চ দামে ১৭ কোম্পানি
- তিন শেয়ারের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি, ডিএসইর সতর্কবার্তা
- ডেনিম উৎপাদন বাড়াতে এভিন্স টেক্সটাইলসের বড় পরিকল্পনা
- চলতি সপ্তাহে ঘোষণা আসছে ৫ কোম্পানির ডিভিডেন্ড-ইপিএস
- ব্যাখ্যা শুনতে ডাকা হচ্ছে শেয়ারবাজারের পাঁচ ব্যাংককে
- ব্যাংকিং খাতে এমডিদের পদত্যাগের ঢেউ: সুশাসনের সংকট স্পষ্ট