ঢাকা, রবিবার, ৩১ আগস্ট ২০২৫, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২
শেয়ারবাজারে ইতিহাস গড়ল ব্র্যাক ব্যাংক

হাসান মাহমুদ ফারাবী
রিপোর্টার

হাসান মাহমুদ ফারাবী: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বেসরকারি ব্যাংকিং খাতের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এক নতুন ও ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জন করেছে। প্রথমবারের মতো ব্যাংকটির বাজার মূলধন ১৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে, যা এটিকে ডিএসই’র চতুর্থ বৃহত্তম তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। এই নতুন রেকর্ডের মধ্য দিয়ে ব্র্যাক ব্যাংক দেশের অন্যতম প্রধান টেলিকম অপারেটর রবি’কে পেছনে ফেলেছে, যা বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের এক স্পষ্ট ইঙ্গিত।
ডিএসই’র তথ্য অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ারের দাম ৭.১৪ শতাংশ বেড়ে ৭৬ টাকা ৫০ পয়সায় উঠে আসে। এর ফলে ব্যাংকটির বাজার মূলধন দাঁড়ায় ১৫ হাজার ২৩০ কোটি টাকা, যা রবির বর্তমান বাজার মূলধন ১৫ হাজার ৮৫ কোটি টাকাকে ছাড়িয়ে গেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই অসাধারণ অগ্রগতি হঠাৎ করে ঘটেনি। গত মে মাস থেকে ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ারের দাম প্রায় ৬৭ শতাংশ বেড়েছে, যার পেছনে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে এর শক্তিশালী আর্থিক ফলাফল এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে ফিরে আসা আস্থা।
ব্যাংকটির সর্বশেষ প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনগুলোই এই সাফল্যের প্রমাণ। ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) ব্র্যাক ব্যাংক ৯০৫ কোটি টাকা সমন্বিত মুনাফা অর্জন করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৩ শতাংশ বেশি। এর আগে, ২০২৪ সালে ব্যাংকটি তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪৩১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা সমন্বিত মুনাফা করেছিল, যা আগের বছরের চেয়ে ৭৩ শতাংশ বেশি ছিল। মূলত বিনিয়োগ থেকে আয় বৃদ্ধি, সুদ আয় এবং সুদবিহীন আয়, উভয় খাতেই শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ফলে এমন রেকর্ড মুনাফা অর্জন সম্ভব হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ব্র্যাক ব্যাংকের ধারাবাহিক মুনাফা বৃদ্ধি এবং সুশাসন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আকর্ষণ তৈরি করেছে। তাদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ব্যাংকিং খাতের শেয়ারগুলো কিছুটা অবমূল্যায়িত ছিল, তবে ব্র্যাক ব্যাংকের মতো শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের পারফরম্যান্স পুরো খাতেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এ বিষয়ে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ১৫ হাজার কোটি টাকা বাজার মূলধন অতিক্রম করা শুধু ব্র্যাক ব্যাংকের জন্যই নয়, পুরো ব্যাংকিং খাতের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি প্রমাণ করে যে, সঠিক কৌশল ও সুশাসন থাকলে বেসরকারি ব্যাংকগুলোও শেয়ারবাজারে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
বর্তমানে ডিএসইতে বাজার মূলধনের দিক থেকে ব্র্যাক ব্যাংকের সামনে আছে কেবল তিনটি কোম্পানি— গ্রামীণফোন, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস এবং ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি)।
এএসএম/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- সম্ভাবনার নতুন দিগন্তে শেয়ারবাজারের খান ব্রাদার্স
- বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে শেয়ারবাজারের ১১ কোম্পানিতে
- মূলধন ঘাটতিতে দুই ব্রোকারেজ হাউজ, ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
- চলতি বছর শেয়ারবাজারে আসছে রাষ্ট্রায়াত্ব দুই প্রতিষ্ঠান
- মার্জারের সাফল্যে উজ্জ্বল ফার কেমিক্যাল
- সাকিবের মোনার্কসহ ৮ ব্রোকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
- তালিকাভুক্ত কোম্পানির ১৫ লাখ শেয়ার কেনার ঘোষণা
- বিমা আইন সংস্কার: বিনিয়োগ ও আস্থায় নতুন দিগন্ত
- শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর প্রথম ‘নো ডিভিডেন্ড’
- শেয়ারবাজারে রেকর্ড: বছরের সর্বোচ্চ দামে ১৭ কোম্পানি
- তিন শেয়ারের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি, ডিএসইর সতর্কবার্তা
- ডেনিম উৎপাদন বাড়াতে এভিন্স টেক্সটাইলসের বড় পরিকল্পনা
- চলতি সপ্তাহে ঘোষণা আসছে ৫ কোম্পানির ডিভিডেন্ড-ইপিএস
- ব্যাখ্যা শুনতে ডাকা হচ্ছে শেয়ারবাজারের পাঁচ ব্যাংককে
- ব্যাংকিং খাতে এমডিদের পদত্যাগের ঢেউ: সুশাসনের সংকট স্পষ্ট