ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২
জাহাজে তুলে রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে ভারত

ভারতের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে যে, দেশটিতে আটক রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লি থেকে আটক হওয়া অন্তত ৪০ জন রোহিঙ্গা জানিয়েছেন সরকারিভাবে থানায় ডেকে ছবি ও আঙুলের ছাপ নেওয়ার কথা বলে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের আটক করে বঙ্গোপসাগরের দ্বীপে পাঠানো হয়। সেখান থেকে নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে শেষ পর্যন্ত আন্দামান সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। লাইফ জ্যাকেট দেওয়া হলেও তারা সাঁতরে তীরে ওঠেন এবং পরে মিয়ানমারের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে প্রতিরোধ গোষ্ঠী বাহটু আর্মির কাছে আশ্রয় নেন।
জাতিসংঘ এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে বলেছে, ভারত রোহিঙ্গাদের জীবনকে “চরম ঝুঁকির মুখে” ফেলছে। জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক টমাস অ্যান্ড্রুজ দাবি করেছেন, তার হাতে এ বিষয়ে প্রমাণস্বরূপ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে যা ইতোমধ্যেই জেনেভায় ভারতের মিশন প্রধানের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে ভারতের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আটক হওয়া রোহিঙ্গাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দিল্লি থেকে আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে নেওয়ার পর তাদের হাত-পা বেঁধে, চোখ-মুখ ঢেকে নৌবাহিনীর জাহাজে তোলা হয়। সেখানে প্রায় ১৪ ঘণ্টা কাটানোর সময় তাদের অনেককে মারধর করা হয়। ৪০ জনের মধ্যে ১৫ জন ছিলেন খ্রিস্টান রোহিঙ্গা। তাদের ধর্ম পরিবর্তন নিয়ে জেরা করা হয় এবং অপমানজনক আচরণ করা হয়। অবশেষে ৮ মে সন্ধ্যায় ছোট রাবারের নৌকায় তুলে সমুদ্রে নামতে বাধ্য করা হয়। বলা হয়েছিল তারা ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেছেন কিন্তু আসলে তারা ছিলেন মিয়ানমারে। পরদিন স্থানীয় জেলেরা তাদের উদ্ধার করে।
দিল্লিতে থাকা রোহিঙ্গা তরুণ নুরুল আমিন জানান, তার ভাই খাইরুলসহ পরিবারের চার সদস্যকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্যে তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মানুষকে কীভাবে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া যায়? মানবতা কোথায় গেল?”
ভারত রোহিঙ্গাদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি বরং অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বর্তমানে জাতিসংঘের তথ্যমতে ভারতে প্রায় ২৩ হাজার ৮০০ রোহিঙ্গা নিবন্ধিত হলেও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে প্রকৃত সংখ্যা ৪০ হাজারেরও বেশি।
এ ঘটনায় ভারতের সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছে। তবে আদালতের এক বিচারপতি অভিযোগগুলোকে “অবাস্তব কল্পনা” বলে মন্তব্য করেছেন। মামলার পরবর্তী শুনানি ২৯ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত হয়েছে।
এদিকে ভারতে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই ঘর ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। নুরুল আমিন বলেন, “এখন আমাদেরও ভয় সরকার যে কোনো সময় আমাদের ধরে নিয়ে সমুদ্রে ফেলে দিতে পারে।”
জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক অ্যান্ড্রুজ বলেন, “রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় ভারতে আসেনি তারা মিয়ানমারের সহিংসতা থেকে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে এসেছে। এখন তাদের ফের বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।”
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- তিন কোম্পানির কারখানা বন্ধ, ক্ষোভ বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের
- আইসিবি’র বিশেষ তহবিলের মেয়াদ ২০৩২ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি
- কেয়া কসমেটিক্সের ৮ হাজার কোটি টাকা উধাও, চার ব্যাংককে তলব
- সম্ভাবনার নতুন দিগন্তে শেয়ারবাজারের খান ব্রাদার্স
- মূলধন ঘাটতিতে দুই ব্রোকারেজ হাউজ, ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
- দুই খবরে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ শেয়ারের চমক
- চলতি বছর শেয়ারবাজারে আসছে রাষ্ট্রায়াত্ব দুই প্রতিষ্ঠান
- সাকিবের মোনার্কসহ ৮ ব্রোকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
- ২৩ আগস্ট : শেয়ারবাজারের সেরা ৮ খবর
- হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রতারণা, বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করল ডিএসই
- বিএসইসির নতুন মার্জিন বিধিমালার খসড়া অনুমোদন
- বিমা আইন সংস্কার: বিনিয়োগ ও আস্থায় নতুন দিগন্ত
- কোম্পানির অস্বাভাবিক শেয়ারদর: ডিএসইর সতর্কবার্তা
- শেয়ারবাজারের জন্য সুখবর: কমছে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদ
- তিন শেয়ারের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি, ডিএসইর সতর্কবার্তা