ঢাকা, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের ভবিষ্যত নিয়ে কিংবদন্তিদের শঙ্কা

২০২৫ আগস্ট ১৩ ১৮:২৫:৩৪

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের ভবিষ্যত নিয়ে কিংবদন্তিদের শঙ্কা

এক সময়ের ক্রিকেট বিশ্বের অপ্রতিরোধ্য শক্তি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের বর্তমান নিম্নমুখী গ্রাফ নিয়ে দেশটির কিংবদন্তি ক্রিকেটাররা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে মাত্র ২৭ রানে অলআউট হওয়ার লজ্জাজনক রেকর্ডের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড (CWI) সমস্যার সমাধানে ব্রায়ান লারা, ক্লাইভ লয়েড, ভিভ রিচার্ডসদের মতো সাবেক কিংবদন্তিদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠকে বসে।

বৈঠকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের আর্থিক সংকট, প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা এবং তরুণ ক্রিকেটারদের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের প্রতি ঝোঁকের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।

দুইবারের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ক্লাইভ লয়েড আইসিসির প্রস্তাবিত দ্বি-স্তরীয় টেস্ট পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই নিয়ম চালু হলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দ্বিতীয় স্তর থেকে বের হতে ১০০ বছর লেগে যেতে পারে। লয়েডের মতে, আর্থিক সমস্যাই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের পতনের অন্যতম প্রধান কারণ। তিনি আইসিসির কাছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অতীত গৌরবের কথা মাথায় রেখে আরও বেশি আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ড ১৮০ মিলিয়ন ডলার পায়, আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ পায় বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মতো ৮০ মিলিয়ন ডলার। এটা ঠিক নয়।"

ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান ব্রায়ান লারা মনে করেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এখন আর অন্য দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্য নয়। তিনি বলেন, "একটা সময় ছিল যখন দক্ষতার বিচারে দল তৈরি হতো এবং আমরা বিশ্বের সেরা ছিলাম। কিন্তু খেলাটা এখন অনেক বদলে গেছে।" লারার মতে, দেশের ক্রিকেটে এখনও প্রতিভা থাকলেও সেগুলোকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে না। তরুণ ক্রিকেটারদের প্রেরণার উৎস খুঁজে বের করার ওপরেও তিনি জোর দেন।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে লারা, লয়েড, ভিভ রিচার্ডস, ডেসমন্ড হেইন্স এবং শিবনারায়ণ চন্দ্রপলের মতো কিংবদন্তিরা অংশ নেন। বৈঠকে দুর্বল অবকাঠামো, ঘরোয়া ক্রিকেটের নিম্নমান এবং খেলোয়াড়দের দক্ষতার অভাবকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের পতনের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য একটি কার্যকরী হাই-পারফরম্যান্স সেন্টার স্থাপন এবং তৃণমূল থেকে খেলোয়াড় তৈরির জন্য একটি একাডেমী ব্যবস্থা গড়ে তোলার মতো প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

ক্রিকেটারদের জাতীয় দলের চেয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগকে বেছে নেওয়ার প্রবণতাকেও একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে। খেলোয়াড়রা দেশের হয়ে খেলার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ পান না, যা তাদের টি-টোয়েন্টি লিগের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করছে। এই সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কিংবদন্তিরা বোর্ডের প্রশাসনিক কাঠামো সংস্কার এবং আইসিসির কাছে আর্থিক বৈষম্য দূর করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত