ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩
ঢাকার ৯৮ শতাংশ শিশুর রক্তেই সীসার উপস্থিতি: আইসিডিডিআরবি
রাজধানী ঢাকার ৯৮ শতাংশ শিশুর রক্তে উদ্বেগজনক মাত্রায় সীসার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) এবং স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির এক যৌথ গবেষণায় এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।
বুধবার (৬ আগস্ট) আয়োজিত 'বাংলাদেশে সীসা দূষণ প্রতিরোধ: অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ' শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এই গবেষণার প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
গবেষণায় ঢাকার ২ থেকে ৪ বছর বয়সী ৫০০ শিশুর রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। আইসিডিডিআরবি-র সহকারী বিজ্ঞানী ডা. জেসমিন সুলতানা জানান, গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি শিশুর রক্তেই সীসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৯৮ শতাংশ শিশুর রক্তে সীসার মাত্রা যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) নির্ধারিত উদ্বেগজনক মাত্রা ৩৫ মাইক্রোগ্রাম/লিটারের চেয়ে বেশি ছিল। গবেষণায় শিশুদের রক্তে সীসার মধ্যম মাত্রা পাওয়া গেছে ৬৭ মাইক্রোগ্রাম/লিটার।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, সীসা-নির্ভর শিল্পকারখানা, যেমন- লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি রিসাইক্লিং বা সীসা গলানোর কারখানার এক কিলোমিটারের মধ্যে বসবাসকারী শিশুদের রক্তে সীসার মাত্রা পাঁচ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে বসবাসকারী শিশুদের তুলনায় ৪৩ শতাংশ বেশি। শিল্পকারখানার দূষণ ছাড়াও ঘরের জমানো ধুলা, সীসাযুক্ত প্রসাধনী, খেলনা এবং রান্নার পাত্রকেও সীসা দূষণের অন্যতম উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আইসিডিডিআরবি-র নির্বাহী পরিচালক ডা. তাহমিদ আহমেদ বলেন, "সীসার বিষক্রিয়া নীরবভাবে আমাদের শিশুদের ভবিষ্যৎ সংকুচিত করে দিচ্ছে। এটি তাদের মেধা ও সৃজনশীল বিকাশ বাধাগ্রস্ত করার পাশাপাশি দেশে প্রতিবন্ধী শিশুর হার বাড়িয়ে দিচ্ছে।" তিনি আরও বলেন, এই বিষক্রিয়া শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশে স্থায়ী ক্ষতি করে তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্ভাবনা নষ্ট করে দেয়।
বিশেষজ্ঞরা জানান, রক্তে সীসার কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সামান্য পরিমাণ সীসাও মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। ইউনিসেফের তথ্যমতে, বাংলাদেশে প্রায় সাড়ে তিন কোটি শিশু সীসা দূষণের শিকার, যা সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে চতুর্থ।
আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞরা ঢাকার আশপাশ থেকে সীসা-নির্ভর শিল্প-কারখানাগুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলার বা দূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন। তারা বলেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এক মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়বে। শিশুদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে সভা শেষ হয়।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- শুধু আইফোনের জন্য নয়, অপ্রতীম হ/ত্যার পেছনে ছিল বিরোধও
- পাভেলকে ঘিরে ফের ভাইরাল পাঁচ মিনিটের ভিডিও
- একাদশ শ্রেণির ভর্তির ফল প্রকাশ আজ, যেভাবে দেখবেন
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি আবেদনের সময় বাড়ল
- সিগারেট নিয়ে নতুন বিধান জারি
- মিছিলের প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৮ কর্মী আটক
- নতুন পে স্কেলে কোন গ্রেডে কত বেতন, দেখুন এখানে
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ, আবেদন ১২ অক্টোবর পর্যন্ত
- রাস্তার পাশে গাড়ি পার্কিং না করার আহ্বান পরিবহন মালিক সমিতির
- পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে যা জানা গেল
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৫ সেপ্টেম্বর)
- আরও ৯০ দিন মেয়াদ বাড়ল ডাকসুর
- অপ্রতিম হ/ত্যার রহস্যময় তথ্য উন্মোচন করেছে পুলিশ
- ঢাবির ৬৪ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি
- স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বাংলাদেশ পোস্ট বেসিক গ্রাজুয়েট নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি স্টুডেন্ট কাউন্সিলের স্মারকলিপি