ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২
দুই অধ্যক্ষ, এক চেয়ার: বদলগাছী কলেজে অচলাবস্থা
নওগাঁর বদলগাছী মহিলা কলেজে অধ্যক্ষের পদ নিয়ে বিরোধ চরমে পৌঁছেছে। অধ্যক্ষ মাহবুব আলম ও জ্যৈষ্ঠ প্রভাষক ইমামুল হোসেন উভয়েই নিজেদের অধ্যক্ষ দাবি করে কলেজ চত্বরে প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন। এই দ্বন্দ্ব শেষ পর্যন্ত উত্তেজনা ও হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
গত রোববার (২৯ জুন) দুপুরে কলেজে এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে এই ঘটনা ঘটে। পরীক্ষার্থীরা খাতা জমা দিচ্ছিল এমন সময় প্রভাষক ইমামুল হোসেন অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করে নিজেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বলে দাবি করেন এবং মাহবুব আলমকে চেয়ার ছেড়ে দিতে বলেন। মাহবুব আলম অনড় থাকায় তিনি পাশের চেয়ারে বসে পড়েন। মুহূর্তেই দুই পক্ষের শিক্ষকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং হাতাহাতি শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত দেখে ইমামুল হোসেন সরে যান, তবে ততক্ষণে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু মানুষ কলেজে ভিড় করেন।
ঘটনার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে চলা প্রশাসনিক জটিলতা। ২০২৩ সালের আগস্টে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অধ্যক্ষ মাহবুব আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং লুৎফর রহমানকে সভাপতি করে একটি এডহক কমিটি গঠন করা হয়, যিনি সহকারী অধ্যাপক মমতাজ জাহানকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ দেন। পরে মাহবুব আলম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিযোগ করলে বিশ্ববিদ্যালয় সেই কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করে এবং ফজলে হুদা বাবুলকে সভাপতি করে নতুন এডহক কমিটি অনুমোদন দেয়। এই কমিটি মাহবুব আলমকে পুনরায় অধ্যক্ষ পদে বহাল করে।
অন্যদিকে, ইমামুল হোসেন দাবি করছেন, হাইকোর্টের রিটে বর্তমান কমিটি স্থগিত হওয়ায় পূর্বের সভাপতি লুৎফর রহমান তাঁকে অধ্যক্ষ নিযুক্ত করেন। লুৎফর রহমানও একই দাবি করে বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পূর্বের কমিটির মেয়াদ তিন মাস বাড়িয়েছে।
মাহবুব আলম পাল্টা বক্তব্যে বলেন, রিট শুনানি এখনও শেষ হয়নি, আদালত তিন সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছে। এর আগে কোনো নিয়োগ বৈধ হতে পারে না। তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পূর্বের কমিটিকে বাতিল করে ফজলে হুদা বাবুলের নেতৃত্বে নতুন কমিটি দিয়েছে।
বর্তমান সভাপতি ফজলে হুদা বাবুল বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই অধ্যক্ষের চেয়ার দখলের চেষ্টা খুবই অনভিপ্রেত। আদালতের রায় অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই সঠিক পথ।
এই অনিশ্চয়তা ও দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়েছে কলেজের শিক্ষার্থীরা। এলাকাবাসী ও শিক্ষকরা বলছেন, এই ধরনের পরিস্থিতি শিক্ষার পরিবেশকে ধ্বংস করছে এবং দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- কী আছে এপস্টেইন ফাইলে? কেন এত হইচই বিশ্বজুড়ে?
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বিডি থাই ফুড
- ইপিএস প্রকাশ করেছে কনফিডেন্স সিমেন্ট
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সোনালী পেপার
- ইপিএস প্রকাশ করেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সিলকো ফার্মা
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সাফকো স্পিনিং
- শব-ই-বরাতের গুরুত্ব ও আমল
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইন্দো-বাংলা ফার্মা
- নতুন জাতীয় দৈনিকে ক্যারিয়ার গড়ার বড় সুযোগ
- ইপিএস প্রকাশ করেছে এসিআই
- এক লাফে ভরিতে ১৪ হাজার টাকা কমলো সোনার দাম
- ইপিএস প্রকাশ করেছে গোল্ডেন সন
- ইপিএস প্রকাশ করেছে জেনেক্স ইনফোসিস
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ঢাকা ডায়িং