ঢাকা, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩
মার্জিন ঋণ নিয়ে গুজব: ফের অস্থির শেয়ারবাজার
শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণ নিয়ে নতুন ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। বলা হচ্ছে, মার্জিন ঋণের নীতিমালা হঠাৎ পরিবর্তন হয়েছে এবং এখন ঋণের হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে শেয়ার প্রতি আয় ও শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এই গুজবের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে এবং বাজারে উদ্বেগ ও অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে।
গত চার কার্যদিবস ধরে বাজারে দরপতনের পেছনে মূল্য সংশোধনের পাশাপাশি এই গুজবের প্রভাব বেশ বড়। বিশেষ করে গত দুই দিন দরপতনের কারণে মার্জিন ঋণ নিয়ে ছড়ানো গুজবকে প্রধান কারণ হিসেবে অভিহিত করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তারা মনে করেন, বিনিয়োগকারীরা এই গুজবে উদ্বিগ্ন হয়ে ব্যাপক বিক্রির চাপ সৃষ্টি করছেন।
তবে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সূত্রে জানা গেছে, তারা মার্জিন ঋণের কোনো নতুন নীতিমালা গ্রহণ করেনি। এছাড়া, এনএভিপিএসের সঙ্গে ঋণের হার সামঞ্জস্য করার মতো কোনো বাস্তবতা বর্তমানে দেশে নেই বলছেন সংশ্লিষ্টরা। এই গুজব সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
মার্জিন ঋণ হলো শেয়ারবাজারে শেয়ার কেনার জন্য বিনিয়োগকারীদের দেওয়া বিশেষ একটি ঋণ সুবিধা। মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারহাউজের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা এই ঋণ গ্রহণ করেন। যদি কোনো কারণে বিনিয়োগকারীর শেয়ারের দাম কমে যায় এবং ঋণের অনুপাত নির্দিষ্ট সীমার নিচে নেমে আসে, তখন ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান তাদের মার্জিন কল পাঠিয়ে অতিরিক্ত টাকা জমা দেওয়ার অনুরোধ করেন। যদি বিনিয়োগকারী এই মার্জিন কলে সাড়া না দেন, তবে ব্রোকারেজ বা মার্চেন্ট ব্যাংক তাদের শেয়ার বিক্রি করে দিতে পারে, যা ফোর্সড সেল নামে পরিচিত।
অনেক সময় বিনিয়োগকারীরা নিজের ক্ষমতার বাইরে অতিরিক্ত মার্জিন ঋণ গ্রহণ করে যা তাদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অতীতে মার্জিন ঋণের অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের কারণে বিনিয়োগকারী ও ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাই এই বিষয় নিয়ে নিয়মিত আলোচনা ও নজরদারি চলছে।
চলতি বছরের শুরুতে গঠিত শেয়ারবাজার সংস্কার টাস্কফোর্স বিএসইসিকে কিছু সুপারিশ জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, যাদের বিনিয়োগ ১০ লাখ টাকার কম, তাদের মার্জিন ঋণ বন্ধ করার প্রস্তাব। এছাড়াও, যাদের নিয়মিত আয়ের উৎস নেই, তাদের জন্যও ঋণ সুবিধা সীমিত করার সুপারিশ করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত, গৃহিণী ও শিক্ষার্থীদেরও মার্জিন ঋণ থেকে বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ এই শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেয়ার ক্ষমতা কম এবং বাজারে দরপতনের সময় তারা অতিরিক্ত টাকা জমা দিতে অক্ষম হয়, ফলে ফোর্সড সেলের শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। মার্জিন ঋণ নিয়ে শেয়ারবাজারে এটাই সর্বশেষ প্রস্তাবনা।
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের ১ম টি-টোয়েন্টি-দেখুন সরাসরি (LIVE)
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা: দেখুন সবগুলো প্রশ্নের সঠিক সমাধান
- স্কুলছাত্রী থেকে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধার সাথে অন্তরঙ্গের পর ভিডিও কুয়েট ছাত্রের
- বিকালে আসছে ১৯ কোম্পানির ডিভিডেন্ড-ইপিএস
- বুলগেরিয়ার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হলো ঢাবি শিক্ষার্থীর প্রামাণ্যচিত্র
- বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের সিনেট সদস্য হলেন ৫ সংসদ সদস্য
- বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১০০ ধাপ এগিয়েছে ঢাবি, যৌথভাবে দেশসেরা
- বদলে যাচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম
- স্বর্ণের দামে রেকর্ড পতন
- এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে যা জানাল শিক্ষাবোর্ড
- ঢাবি ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত
- ঢাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ বাসা থেকে উদ্ধার
- বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ভিসা স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রে
- মিমোর মৃ'ত্যু ঘিরে সর্বশেষ যা জানা গেল
- ‘সিলটি’ ভাষাকে দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা করার দাবি