ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩
ঈদ ও শাটডাউনে রপ্তানি আয়ে ছন্দপতন
বাংলাদেশের রপ্তানি খাত যখন একটি ইতিবাচক গতিতে এগোচ্ছিল, তখন অর্থবছরের শেষ মাস জুনে এসে অপ্রত্যাশিতভাবে হোঁচট খেয়েছে। ঈদুল আজহার লম্বা ছুটি এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) 'কমপ্লিট শাটডাউন' - এই দুই কারণে মাসের শুরু এবং শেষের কয়েক দিন রপ্তানি কার্যক্রম কার্যত বন্ধ থাকায় জুনে রপ্তানি আয় ৭.৫৫ শতাংশ কমেছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ছিল ৪ হাজার ৪৯৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এমন অবস্থা বেশ আশাব্যঞ্জক ছিল। তবে জুনের শেষে অর্থাৎ পুরো অর্থবছর শেষে মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮২৮ কোটি ৩৯ লাখ ডলার। সব মিলিয়ে গত বছরের তুলনায় মোট প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮.৫৮ শতাংশ, যা বৈশ্বিক উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ইরান-ইসরায়েল, ভারত-পাকিস্তান সংঘাতসহ দেশি ও আন্তর্জাতিকভাবে নানা চাপ ও অস্থিরতার মধ্যেও বেশ ইতিবাচক।
ইপিবি জানিয়েছে, জুন মাসে আয় কমেছে ১৩৯ কোটি ৯৯ লাখ ডলার। মে মাসে রপ্তানি যেখানে ছিল ৪.৭৪ বিলিয়ন ডলার, জুনে তা নেমে এসেছে ৩.৩৩ বিলিয়নে।
রপ্তানিকারকেরা বলছেন, ঈদের ছুটিতে কারখানা বন্ধ থাকায় এবং মাসের শেষে এনবিআরের কর্মবিরতির কারণে বন্দরের গেট বন্ধ থাকায় রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, "এই সময় বন্দরে অপেক্ষমাণ কার্গোতে রপ্তানি পণ্য লোড হবে কীভাবে এবং রপ্তানি গন্তব্যে যাবে কীভাবে?"
এর আগে গত ২৬ ও ২৭ জুন এনবিআরের 'কমপ্লিট শাটডাউন'-এর কারণে আমদানি-রপ্তানি কার্যত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। যার ফলে বন্দরে রপ্তানি পণ্যের কনটেইনারের স্তূপ জমে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এর আগে এমন ছুটি ও শাটডাউনের যুগলবন্দী খুব একটা দেখা যায়নি।
পোশাকমালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, "আমার কারখানায় জুনে রপ্তানি কমেছে। ছুটি না থাকলে এই মাসে (জুন) রপ্তানি আয় মে মাসকে ছাড়িয়ে যেত।"
মোহাম্মদ হাতেম আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, "আরও কয়েক মাস হয়তো চলবে। কিন্তু এরপর ধাক্কা লাগবে। কারণ অর্ডার নিতে হচ্ছে লোকসানে। কারখানা চালু রাখতে বাধ্য হচ্ছি কমদামে কাজ নিতে। অনেক কারখানা বন্ধ হয়েছে, আরও হবে।"
রপ্তানিতে সবচেয়ে বড় খাত পোশাকশিল্পে ৮.৮৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যা সামগ্রিক রপ্তানিকে ইতিবাচক রাখতে সহায়তা করেছে। কৃষিপণ্যেও ২.৫২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। প্লাস্টিক পণ্য ১৬.২১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে এগিয়ে চলেছে, যা এই খাতের উজ্জ্বল সম্ভাবনাকে তুলে ধরে।
তবে কাচজাত পণ্য রপ্তানিতে ৩৮ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে এবং পাটজাত পণ্যে রপ্তানি আয় কমেছে ৪.১০ শতাংশ। এতো প্রতিকূলতার মধ্যেও সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো, সারা বছরের মোট রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের ৪ হাজার ৪৪৬ কোটি ৯৭ লাখ ডলারের তুলনায় এবার তা বেড়ে হয়েছে ৪ হাজার ৮২৮ কোটি ৩৯ লাখ ডলার।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের ১ম টি-টোয়েন্টি-দেখুন সরাসরি (LIVE)
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা: দেখুন সবগুলো প্রশ্নের সঠিক সমাধান
- বিকালে আসছে ১৯ কোম্পানির ডিভিডেন্ড-ইপিএস
- স্কুলছাত্রী থেকে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধার সাথে অন্তরঙ্গের পর ভিডিও কুয়েট ছাত্রের
- দর্শন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. প্রদীপ কুমার রায়ের মৃ’ত্যু
- সকালে না রাতে, কখন গোসল করা স্বাস্থ্যের জন্য বেশি ভালো?
- স্কলারশিপ দিচ্ছে মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়, জেনে নিন আবেদন পদ্ধতি
- বুলগেরিয়ার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হলো ঢাবি শিক্ষার্থীর প্রামাণ্যচিত্র
- স্কুল-কলেজের প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ পরীক্ষার ফল আজই
- দেশে সোনার দামে বড় পতন
- বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১০০ ধাপ এগিয়েছে ঢাবি, যৌথভাবে দেশসেরা
- বদলে যাচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম
- এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে যা জানাল শিক্ষাবোর্ড
- নবনিযুক্ত সিন্ডিকেট সদস্য মোর্শেদ হাসান খানকে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের শুভেচ্ছা
- অভিনেত্রী দিব্যাঙ্কা সিরোহী আর নেই