ঢাকা, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩
‘বাংলাদেশের লিখিত দলিল হবে জুলাই অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র’
ডুয়া নিউজ: গতকাল থেকেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের ফেসবুক ওয়ালে ঘুরে বেড়াচ্ছিল ৩১ জুলাই। এ নিয়ে জল্পনা শুরু হলে জানা যায় আগামী ৩১ ডিসেম্বর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতারা ‘প্রোক্লেমেশন অব জুলাই রেভুলেশন’ ঘোষণা করতে যাচ্ছেন। ওই দিন বিকাল ৩টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ ঘোষণা দেবেন তারা।
এ ঘোষণাপত্রে কী কী বিষয় থাকবে, তা জানাতে আজ রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা।
সংবাদ সম্মেলন আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান হওয়ার পেছনে যে কারণ ছিল, প্রেক্ষাপট ছিল সেটা ১৬ বছরে তৈরি হয়নি। এটা ৫৩ থেকে ৫৪ বছরের প্রেক্ষাপট, আড়াই শ বছরের প্রেক্ষাপট। বিগত ১৬ বছরে এই প্রেক্ষাপট তার সব মাত্রা অতিক্রম করে। সে সময় নির্যাতন, নিপীড়ন, অন্যায়, জুলুম, ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি, মানুষকে জিম্মি করা, হত্যাসহ সবকিছু নিয়ে মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দেওয়া হয়।’
সারজিস আলম বলেন, ‘১৬ বছরের নিপীড়ন শেষে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে একটি যৌক্তিক আন্দোলন শুরু হলো। এটি ৫ আগস্টে গিয়ে শেষ হয়। এটি বিপ্লবই। বিপ্লবের প্রথম যেই ধাপ, তার একটি অতিক্রম করেছি আমরা।’
এ সময় সমন্বয়ক আরও বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের যে ঘোষণাপত্র, সেটি অবশ্যই আরও আগে ঘোষণা করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু পুরো দেশের রাষ্ট্রীয় যে সিস্টেম, এই দুর্নীতিগ্রস্ত সিস্টেমকে একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে নিয়ে এসে, সেখান থেকে কিছু করা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি সিস্টেমকে সুন্দরভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য যে সহযোগিতা প্রয়োজন, রাষ্ট্র এই মুহূর্তে সিস্টেমের সবার কাছ থেকে প্রত্যাশা অনুযায়ী তা পাচ্ছে না।’
সারজিস আলম বলেন, ‘বিগত ১৬ বছরে মানুষ কীভাবে অন্যায় অত্যাচার, নিপীড়নের শিকার হয়েছে, কোন ঘটনার প্রেক্ষাপটে এই অভ্যুত্থানটি সংঘটিত হয়েছে, মানুষ জীবনের মায়া না করে, রক্তের মায়া না করে, রাজপথে নেমেছে এবং খুনি হাসিনার পতন হয়েছে। মানুষের নামার পেছনে কিছু কারণ ছিল। প্রত্যেক মানুষের মনে কিছু আকাঙ্ক্ষা ছিল, স্বপ্ন ছিল, একটা স্পিরিট ছিল। এই স্পিরিটগুলো কী ছিল এবং সামগ্রিকভাবে আমাদের জুলাই বিপ্লব, এই বিল্পব থেকে বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা কী, আশা-আকাঙ্ক্ষা কী, এই সামগ্রিক বিষয়গুলো একটি ঘোষণাপত্রে লিখিতভাবে লিপিবদ্ধ থাকা প্রয়োজন।’
‘এই ঘোষণাপত্র পুরো বাংলাদেশের একটি লিখিত দলিল হিসেবে থাকবে। সেই দলিল আমাদের নতুন স্বপ্নকে ধারণ করবে, বিগত সিস্টেমগুলোকে প্রত্যাখ্যান করবে, নতুন যে সিস্টেম আমরা প্রত্যাশা করি, সেগুলোকে বাস্তবায়নের পথ দেখাবে, যোগ করেন তিনি।’
সারজিস বলেন, ‘বিগত সময়ে যে বিষয়গুলো মানুষ নিজের জায়গা থেকে গ্রহণ করেনি এবং আগামীতে মানুষ যে সিস্টেম চায়, তার মধ্যে একটি পার্থক্য তৈরি করবে এ ঘোষণাপত্র। আগামীতে মানুষের দায়িত্ব যারা ভোটের মাধ্যমে গ্রহণ করবে, তাদের ক্ষেত্রেও এটি একটি নির্দেশিকা হিসেবে থাকবে। সেই বিষয়গুলো আমরা প্রোক্লেমেশন অব জুলাই রেভুলেশনে লিপিবদ্ধ করব।’
ইতোমধ্যে এর একটি খসড়া তৈরি করেছেন জানিয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের এ সমন্বয়ক বলেন, ‘এই বিপ্লবের সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন, দলমত-নির্বিশেষে সবার মতামত নেওয়া হচ্ছে; সংশোধন, পরিমার্জন করা হচ্ছে। এই বিপ্লব যেমন ফ্যাসিস্টবিরোধী সবাইকে ধারণ করতে পেরেছিল, আমাদের ঘোষণাপত্রও সবার আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করতে পারবে বলে আশা করি। এটি আগামীর বাংলাদেশের ঘোষণাপত্র।’
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মাহমুদ আলমের মৃত্যু, উপাচার্যের শোক
- জেনে নিন আজকের বাজারে ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার দাম
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৭ অক্টোবর)
- না ফেরার দেশে চলে গেলেন ‘সিআইডি’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেতা
- বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ, আবেদন করবেন যেভাবে
- ১৫ দিনের ব্যবধান দুইবার হবে শারদীয় দুর্গাপূজা
- আজকের নামাজের সময়সূচি (২৬ অক্টোবর)
- আনসার-ভিডিপিতে ২২৮ পদে নিয়োগ, আবেদন অনলাইনে
- ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা: ঢাবির সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৮ অক্টোবর)
- ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপের ফাইনালে বাংলাদেশ
- ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তনে আবেদন করবেন যেভাবে, জানুন বিস্তারিত
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৩১ অক্টোবর)
- অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৯৫ পদে নিয়োগ, আবেদন অনলাইনে
- মানিক পশারীর জানাজা-দাফনে বাধা নিয়ে যা বললেন মাসুদ সাঈদী