ঢাকা, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
কোথায় কোথায় রাখা আছে পাকিস্তানের পারমাণবিক বোমা?
ডুয়া ডেস্ক: ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগামে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আবারও উত্তেজনা বাড়ছে। এই উত্তেজনার মাঝে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভারত যদি হামলা চালায়, তবে পাকিস্তান পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কথা ভাববে। তার এই মন্তব্যের পর থেকে পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র কোথায় এবং কী অবস্থায় রাখা আছে—তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
২০২৩ সালে 'ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্সেস' (FAS) পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, পাকিস্তান বছরে ১৪ থেকে ২৭টি নতুন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে এবং ২০২৩ সাল নাগাদ দেশটির কাছে আনুমানিক ১৭০টি পারমাণবিক অস্ত্র ছিল। একই সময়ে ভারতের অস্ত্র সংখ্যা ছিল প্রায় ১৮০টি।
FAS আরও জানায়, পাকিস্তান তার পারমাণবিক অস্ত্রগুলো বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গোপনে সংরক্ষণ করে, যাতে একসাথে সব ধ্বংস হওয়ার ঝুঁকি না থাকে। তবে কিছু ঘাঁটির অবস্থান ও গুরুত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া গেছে:
সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র সংরক্ষণস্থল:
-
মাশরুর বিমান ঘাঁটি (করাচি):
পাকিস্তান বিমানবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। এখান থেকে মিরাজ-III ও মিরাজ-V যুদ্ধবিমান চালানো হয়, যেগুলো পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম। -
সর্গোধা ঘাঁটি (পাঞ্জাব):
এটি পাকিস্তানের স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ডের অধীনে পরিচালিত হয়। ধারণা করা হয়, এখানে কৌশলগত ও পারমাণবিক অস্ত্র সংরক্ষিত আছে। -
কামরা বিমান ঘাঁটি:
এটি পাকিস্তানের প্রধান বিমান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র। এখানেও পারমাণবিক যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের প্রমাণ রয়েছে। -
গজনি ও খুশাব অঞ্চল:
উপগ্রহচিত্র ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এখানে গোপন ভূগর্ভস্থ বাংকারে পারমাণবিক অস্ত্র রাখা হয়।
অস্ত্র বহনের মাধ্যম:
-
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র:
হাতফ সিরিজের (Hatf I-VII) ক্ষেপণাস্ত্র পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম। এর মধ্যে শাহীন-১ ও শাহীন-২ সবচেয়ে শক্তিশালী। -
যুদ্ধবিমান:
মিরাজ-III ও মিরাজ-V বিমান পারমাণবিক অস্ত্র বহনে ব্যবহৃত হয়। এসব বিমান চীন ও পাকিস্তানের যৌথ প্রকল্পে তৈরি। -
ট্যাকটিকাল নিউক্লিয়ার অস্ত্র:
NASR (Hatf-IX) ক্ষেপণাস্ত্র স্বল্প পাল্লার হলেও কার্যকরভাবে ভারতীয় আক্রমণ প্রতিহত করতে সক্ষম।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবস্থাপনা এখনো মূলত সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। বেসামরিক তদারকি তুলনামূলক কম, যার কারণে সংকটকালে হঠাৎ প্রতিক্রিয়াশীল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা দেশটির পারমাণবিক নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ১১-২০ গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় নতুন মানবণ্টন
- ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিরাজুল হক আর নেই
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ সেপ্টেম্বর)
- নব্বইয়ের দশকের রেট্রো ছবি বানাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০ AI প্রম্পট
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ সেপ্টেম্বর)
- মেসির দুই সহায়তাতেও আটলান্টার সঙ্গে ড্র ইন্টার মিয়ামির
- ‘সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিলটি কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক’
- ফেল বিরোধীদলের ওয়াকআউট
- পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
- ‘ছয় মাসে জুলাই সনদের একটি অক্ষরও বাস্তবায়ন করেনি বিএনপি’
- ফের বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ল
- ঢাবিতে গ্রিন নেক্সাস কর্মসূচি সমাপ্ত
- মেসির ১০ নম্বর জার্সি কি অবসর নিতে পারবে?
- শুক্রবার ঢাকার যেসব মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ
- ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর ৩০ ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ