ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
যুদ্ধাবস্থায় আছি, সজাগ থাকতে বললেন প্রধান উপদেষ্টা
ডুয়া ডেস্ক: বর্তমানে দেশে এক ধরনের যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি এই পরিস্থিতিতে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে পুলিশকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, “আমরা এক যুদ্ধাবস্থায় আছি। অশুভ শক্তি আমাদের স্বপ্ন ও ঐক্য ভেঙে দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। এই শক্তিকে প্রতিহত করতে পুলিশকে সজাগ থাকতে হবে।”
মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. ইউনূস বলেন, বিগত ১৫ বছর ধরে পুলিশকে দলীয় বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছিল। অবৈধ আদেশ পালন করতে গিয়ে পুলিশ বাহিনী জনরোষের শিকার হয়েছে, যার ফলে অনেক সৎ কর্মকর্তা পর্যন্ত মাশুল দিতে বাধ্য হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, “স্বৈরাচার পতনের পর পুলিশ বাহিনী অনেকটাই ভেঙে পড়েছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকার পুলিশ বাহিনীকে উজ্জীবিত করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। পুলিশের কাজের জন্য সহায়ক পরিস্থিতি তৈরি করতে সরকার কাজ করছে।”
প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, “বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে, পুলিশ এই স্বপ্ন পূরণের মূল শক্তি।” তিনি বলেন, “বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, স্বৈরাচার আমলে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছিল তা কমিয়ে পুলিশে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য, মানুষ ও পুলিশের মধ্যে দূরত্ব ঘুচিয়ে যাতে মানুষ পুলিশকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।”
চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছর জুনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচন যেন সুষ্ঠু হয় সেজন্য পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনে সব প্রার্থীকে সমান আচরণ প্রদান এবং ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব।”
প্রধান উপদেষ্টা জানান, ভবিষ্যতে পুলিশ বাহিনী যাতে দলীয় বাহিনী হিসেবে বা অন্যায় কাজে ব্যবহৃত না হয় সেজন্য সুষ্ঠু নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের আগের সময়টি কঠিন, তাই পুলিশকে সজাগ থাকতে হবে, যাতে পরাজিত শক্তি দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা না করতে পারে।
এছাড়া নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে পুলিশের সর্বোচ্চ সংবেদনশীলতা প্রদর্শনের জন্য তিনি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “দেশের নিরাপত্তা অনেক দূর এগিয়েছে। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলে দেশ আরও এগিয়ে যাবে।”
ড. ইউনূস বলেন, “আমরা একটি ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে গঠিত বৈষম্যহীন দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি। আমরা দ্বিতীয় বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন দেখছি, আর জুলাই অভ্যুত্থান আমাদের সেই সুযোগ দিয়েছে। এই সুযোগ যেন আমরা হারিয়ে না ফেলি, কারণ এবার ব্যর্থ হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমরা চিরকাল দায়ী থাকব।”
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বাংলাদেশ পোস্ট বেসিক গ্রাজুয়েট নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি স্টুডেন্ট কাউন্সিলের স্মারকলিপি
- শুধু আইফোনের জন্য নয়, অপ্রতীম হ/ত্যার পেছনে ছিল বিরোধও
- পাভেলকে ঘিরে ফের ভাইরাল পাঁচ মিনিটের ভিডিও
- একাদশ শ্রেণির ভর্তির ফল প্রকাশ আজ, যেভাবে দেখবেন
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি আবেদনের সময় বাড়ল
- রাস্তার পাশে গাড়ি পার্কিং না করার আহ্বান পরিবহন মালিক সমিতির
- শতবর্ষী ৮০৮ স্কুল-কলেজের তালিকা করল মাউশি
- সিগারেট নিয়ে নতুন বিধান জারি
- নতুন পে স্কেলে কোন গ্রেডে কত বেতন, দেখুন এখানে
- মিছিলের প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৮ কর্মী আটক
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ, আবেদন ১২ অক্টোবর পর্যন্ত
- অপ্রতিম হ/ত্যার রহস্যময় তথ্য উন্মোচন করেছে পুলিশ
- আত্মহ/ত্যার আগে যা লিখেছিলেন এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী
- ঢাবির ৬৪ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি
- নতুন পে স্কেলের বাইরে থাকছেন যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী