×

ঢাকা, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

আখতারুজ্জামানকে মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জামায়াতের

২০২৬ অক্টোবর ০৩ ১৬:৫৫:১০

আখতারুজ্জামানকে মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জামায়াতের

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ করায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার এবং তার রিমান্ডের আদেশ বাতিল করে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার জন্য দুজনকে বরখাস্ত করার মধ্য দিয়ে কর্তৃপক্ষই সেখানে অব্যবস্থাপনা থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। ফলে এ নিয়ে কথা বলে আখতারুজ্জামান যথার্থ কাজই করেছেন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে সাজানো মামলায় গ্রেফতারের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

গোলাম পরওয়ার বলেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ১ অক্টোবরের ঘটনায় সারা দেশের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্যকে হাতকড়া পরিয়ে আদালতে তোলা এবং রিমান্ডে নেওয়ার বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিমানবন্দরে প্রায় ৩৪ জন সংসদ সদস্যসহ অনেক নেতা অবতরণের পর লাগেজ, জমজমের পানি ও ট্রলি না পেয়ে তিন-চার ঘণ্টা অপেক্ষা করেছেন। ভিআইপি যাত্রী হিসেবে উত্তেজিত হয়ে কর্তৃপক্ষকে শক্ত কথা বলা নাগরিক অধিকার। আখতারুজ্জামান সেই অধিকারই প্রয়োগ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, মামলার এজাহারে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে গায়ে হাত দেওয়া, আঘাত ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে ওই সময় তাঁদের এমপি কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেছেন, আখতারুজ্জামান কারও গায়ে হাত তোলেননি বা কাউকে নাজেহাল করেননি। আখতারুজ্জামান যা বলেছেন, তা ভিডিওতেও দেখা যাচ্ছে।

মামলার বিষয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার কারণে দুজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে কর্তৃপক্ষ সেখানে অব্যবস্থাপনা থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তাঁর ভাষায়, ওই অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কথা বলায় আখতারুজ্জামান যথার্থ কাজই করেছেন। অথচ তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। তিনি এই মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের পাশাপাশি রিমান্ডের আদেশ বাতিল করে আখতারুজ্জামানকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান।

জামায়াতে ইসলামীর এই নেতা বলেন, আখতারুজ্জামান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি সাহসী মানুষের মতো নিজের বাসা থেকে স্বেচ্ছায় পুলিশের সঙ্গে গেছেন। তাঁর গ্রেফতারের কারণ শুধু বিমানবন্দরের ঘটনা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আখতারুজ্জামানকে হেলমেট পরানো হয়েছে। কারাবিধি অনুযায়ী দুর্ধর্ষ অপরাধী, খুনি, ডাকাত কিংবা পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে—এমন আসামিদের ক্ষেত্রে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তিনি প্রশ্ন করেন, আখতারুজ্জামান কি দুর্ধর্ষ ডাকাত বা খুনি? তিনি তো স্বেচ্ছায় পুলিশের সঙ্গে গেছেন। তাহলে কেন তাঁকে হেলমেট পরানো হলো? দুই-তিন দিনের ঘটনায় যারা অপরাধী, তাদের গ্রেফতার করা হয়নি। অথচ একজন নিরপরাধ মানুষকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, আজকাল সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর দলের কিছু মন্ত্রী-এমপি জামায়াতে ইসলামী ও শিবিরের বিরুদ্ধে সুর মিলিয়ে কথা বলছেন। জামায়াত-শিবিরকে ‘গুপ্ত’ বলা হচ্ছে। দায়িত্বপূর্ণ পদে থাকা একজন ব্যক্তির মুখে এ ধরনের কথা মানায় কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, জামায়াতকে গুপ্ত ও স্বাধীনতাবিরোধী বলা হলে এসব বক্তব্য আপনাদের বিরুদ্ধেই যাবে। তাঁর বক্তব্য, ২০-২২ বছরের রাজনৈতিক আন্দোলনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী একসঙ্গে রাজপথে ছিল। চারদলীয় জোটেও তারা একসঙ্গে আন্দোলন করেছে। তখন জামায়াতকে গুপ্ত বলা হয়নি।

তিনি বলেন, আপনার মা যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখন যুদ্ধাপরাধের মামলায় অভিযুক্ত জামায়াত নেতাদের মুক্তির দাবিতে বক্তব্য দিয়েছেন। বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব ও বর্তমান রাষ্ট্রপতিও সংসদে মাওলানা নিজামীর প্রশংসা করে বক্তব্য দিয়েছেন। তাহলে এখন আপনারা কেন ভিন্ন কথা বলছেন?

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতকে ১৯৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী, রাজাকার ও গণহত্যাকারী হিসেবে আখ্যায়িত করলে এর রাজনৈতিক দায় আপনাদেরই নিতে হবে। ২০২৪ সালের আগে আপনারা এসব কথা বলেননি। আওয়ামী লীগ চলে যাওয়ার পর এখন আওয়ামী লীগের ভাষায় জামায়াতকে আক্রমণ করা হচ্ছে।

তিনি প্রশ্ন করেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আপনাদের কথার এত মিল কেন? দিল্লির সঙ্গে গোপনে কোনো যোগাযোগ তৈরি হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও মানুষের মনে তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতকে এক করে দেখা যাবে না। জামায়াতে ইসলামী দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য রাজনীতি করছে।

জাতিকে বিভক্ত করে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করা হলে জনগণ তার জবাব দেবে বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের এই নেতা। তাঁর ভাষ্য, বিরোধী দল ও সরকারি দল মিলে দেশের স্বার্থে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। সরকার ভালো কাজ করলে জামায়াতে ইসলামী সহযোগিতা করবে, আর দেশবিরোধী কাজ হলে তার বিরোধিতা করবে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামী অপরিণত রাজনৈতিক দল নয়। তারা দেশের স্বার্থে রাজনীতি করছে। সরকারের সঙ্গে ফ্যাসিবাদী রাজনীতি বা দিল্লির স্বার্থের কোনো মিল থাকলে নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তার বিরোধিতা করা হবে।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত