×

ঢাকা, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার মামলায় জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার

২০২৬ অক্টোবর ০২ ১৯:৫৪:৫৮

বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার মামলায় জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে ঘিরে বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার মামলায় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের আগে ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বলেন, ‘ডিবি পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাচ্ছে। সবাইকে বিষয়টি জানিয়ে রাখলাম। দোয়া করবেন, দেশের মানুষ-জনগণ ও প্রবাসীর জন্য যেন শহীদ হতে পারি, আল্লাহ যেন আমার সেই আহ্বান কবুল করবেন। জনগণের অধিকারে-সংগ্রামে আমি আছি, থাকব। যতদিন বেঁচে আছি, জনগণের জন্য সংগ্রাম করব।’

শুক্রবার বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটির নম্বর ০৬। একই দিন বিকেলে মামলার এজাহার আদালতে পৌঁছালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর তা গ্রহণ করেন।

বিমানবন্দর থানার এসআই মাজেদুল ইসলামকে আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবু বক্কর ছিদ্দিক। আদালতও ওই সময়ের মধ্যে মামলার প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের ৩৪ জন প্রতিনিধি সপরিবারে মদিনা থেকে ঢাকায় আসেন। তাঁদের বহনকারী ফ্লাইটটি সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে এবং সকাল ৯টা ৮ মিনিটে পার্কিং করে। পরে যাত্রীরা বিমানবন্দরের ২১ নম্বর গেট দিয়ে টার্মিনালে ঢুকে ইমিগ্রেশন শেষ করে লাগেজ নেওয়ার জন্য ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় যান।

সে সময় বিমানবন্দরে আগমনী যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় ট্রলি সংগ্রহে সাময়িক সংকট দেখা দেয় এবং দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। কয়েকজন প্রটোকল সহকারী লাইনের নিয়ম না মেনে ট্রলি নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে লাগেজ আসতে দেরি হওয়া এবং জমজমের পানি না আসার বিষয়কে কেন্দ্র করে কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে অশোভন আচরণ করতে থাকেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে ঘটনাস্থলে আসতে বলেন। নির্বাহী পরিচালক সকাল ১০টা ৪৬ মিনিটে সেখানে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলার সময় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তাঁর দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে যান এবং রূঢ়, অশালীন ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, নির্বাহী পরিচালক বিমানবন্দরে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ ও ট্রলি ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতি বোঝানোর চেষ্টা করলেও আখতারুজ্জামান আরও উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘আমি কিন্তু পিটাবো ধইরা’, ‘গেট আউট ফ্রম হেয়ার’, ‘ঘাড় ধরে বের করে দিবো’, ‘কাজ জানেন না, তদবির করে পোস্টিংয়ে আসবেন’, ‘মাইর খাইতে চান?’ এ সময় তাঁর আচরণ অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও মারমুখী ছিল। পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে মোহাম্মদ কামাল হোসেন নির্বাহী পরিচালককে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেন।

এরপর আখতারুজ্জামান উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশে আবারও হুমকি দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আপনাদের সবাইকে বিমানবন্দরে বেঁধে পিটানো এবং সোশাল মিডিয়ায় দেওয়া দরকার, যাতে তারেক রহমান এটি দেখেন, তখন আপনারা সোজা হবেন। আপনাদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেবো।’ একই ঘটনায় বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সম্পর্কে অশালীন ও অবমাননাকর ভাষা ব্যবহারের অভিযোগও করা হয়েছে।

এ সময় আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা কয়েকজন প্রটোকল সহকারী ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন এবং সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেন। এতে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বিমানবন্দরের কেপিআইভুক্ত এলাকায় ভিডিও ধারণ না করতে সংশ্লিষ্টদের নিষেধ করেন। এ সময় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তাঁর কাছে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে এলে আখতারুজ্জামান তাঁর সঙ্গেও অশোভন ও মারমুখী আচরণ করেন। একই সঙ্গে সাধারণ যাত্রীদের সংগ্রহ করা জমজমের পানির বোতল বা পাত্র ট্রলি থেকে ছুড়ে ফেলে ক্ষতি করেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, এসব কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে আখতারুজ্জামান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো কেপিআইভুক্ত ও স্পর্শকাতর স্থাপনায় দায়িত্ব পালনরত সরকারি কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা সদস্যদের কাজে বাধা দেন, তাঁদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেন, প্রকাশ্যে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও মারমুখী আচরণ করেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন নিরাপত্তা সদস্যকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন। তাঁর আচরণের কারণে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয় বলে মামলায় বলা হয়েছে।

ইমামুল

ট্যাগ: বিমানবন্দর ডিবি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ক্যান্টনমেন্ট শফিকুল ইসলাম আদালতের নির্দেশ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কেপিআই ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ঢাকা-৫ সরকারি কাজে বাধা মেজর অবসরপ্রাপ্ত আখতারুজ্জামান গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ বিমানবন্দর থানায় মামলা বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব লাগেজ সংকট ট্রলি সংকট বিমানবন্দরের নিরাপত্তা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বিমানবন্দর মামলা নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছনা মোহাম্মদ কামাল হোসেন জমজমের পানি আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে আঘাত নিরাপত্তা সুপারভাইজার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন মাজেদুল ইসলাম আলবিরুনী মীর জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ মামলা নম্বর ০৬ দণ্ডবিধি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত