×

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

বাংলাদেশে ভারতীয় আধিপত্য মেনে নেওয়া হবে না: খোমেনী ইহসান

২০২৬ অক্টোবর ০১ ১২:৫৬:৪৫

বাংলাদেশে ভারতীয় আধিপত্য মেনে নেওয়া হবে না: খোমেনী ইহসান

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদ আর মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর ভারতের কোনো ধরনের দাবিদার বিনা প্রতিরোধে মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজনে দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদ অবসানের দাবিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও’ কর্মসূচির আগে আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন খোমেনী ইহসান।

ভারতীয় হাইকমিশনারের অপতৎপরতা বন্ধের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী একজন কূটনীতিকের দায়িত্ব কূটনৈতিক যোগাযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা এবং আয়োজক দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা। কিন্তু কূটনীতিকের ভূমিকার বাইরে গিয়ে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি কার্যালয়ে প্রবেশ করছেন। তাঁর এ ধরনের চলাফেরাকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রশাসনিক স্বাধীনতার প্রতি অবমাননাকর এবং কূটনৈতিক রীতিনীতির পরিপন্থি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

খোমেনী ইহসান আরও বলেন, ভারত সরকারের আশ্রয়ে থাকা জুলাই গণহত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরের মতো ফ্যাসিস্টদের বাংলাদেশের কাছে প্রত্যর্পণ না করে ভারতের হাইকমিশনার প্রতিনিয়ত বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল মুখে দৃশ্যমান হচ্ছেন। এটি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি উপহাস ছাড়া আর কিছুই নয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতি ইঞ্চি মাটি সার্বভৌম এবং এ দেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। এখানে কোনোভাবেই ভারতীয় দাবিদার বা আধিপত্যবাদ বরদাশত করা হবে না। এসব বিনা প্রতিরোধে মেনে নেওয়ার প্রশ্নও নেই। জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ একটি সংগঠন। একজন থাকলেও একজনের রক্ত দিয়ে হলেও ভারতীয় আধিপত্যবাদ প্রতিরোধ করার কথা বলেন তিনি।

ভারতীয়দের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে খোমেনী ইহসান বলেন, শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশে অনেক তাঁবেদারি হয়েছে। ভারতীয় রাষ্ট্রদূত এখানে ভাইসরয়ের ভূমিকা পালন করেছেন। এখন প্রতিরোধ ও প্রতিহত করার সময়। সরকারের মন্ত্রীরা ভারতের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে যতই পিরিত করুক না কেন, বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এসব প্রতিহত করা হবে। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, ভারতের কোনো রাজ্য নয়।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সদস্যসচিব ডা. নাবিল আহমদ, সহকারী সদস্যসচিব আব্দুস সালাম, মো. সাইদুল ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোটের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মীর শওকত আমীন, মহাসচিব মাওলানা আবদুল করিম, নবাব সলিমুল্লাহ অ্যাকাডেমির চেয়ারম্যান মো. আবদুল জব্বার, শাহ নাজমুল হাসান ফেরদৌস, প্যান ইসলামী মুভমেন্টের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোস্তফা জামাল ভূঁইয়া, আগ্রাসন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ ফ্রন্টের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাঈন উদ্দীন এবং বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদ প্রমুখ।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত