×

ঢাকা, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

বঙ্গোপসাগরের নিচে গ্যাসের বড় ভাণ্ডার আছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৭ ২০:৫২:৫৯

বঙ্গোপসাগরের নিচে গ্যাসের বড় ভাণ্ডার আছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: বঙ্গোপসাগরের একদিকে মিয়ানমার এবং অন্যদিকে ভারত গ্যাস উত্তোলন করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তাঁর ভাষ্য, বঙ্গোপসাগরের নিচে প্রচুর গ্যাসের ভাণ্ডার রয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মানিকগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীদের করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের গ্যাস নিচ দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, ফ্যাসিস্টরা দেখেননি। কারণ তাদের গুরুজনদের রাগ হবে, এইজন্য তুলেন নাই। এজন্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র গ্যাসের অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমাদের গ্যাস নাই। আটটি গ্যাসের বিদ্যুৎ কেন্দ্র করেছিল তারা দেখানোর জন্য।

তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও সৌরবিদ্যুতের দিকে যাচ্ছে। ঘরে ঘরে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সব হাসপাতালকে সৌরবিদ্যুতের আওতায় নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, আল্লাহর ওপর ভরসা করে তিনি বলছেন, তাদের নেতা তারেক রহমান আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা করে বঙ্গোপসাগরের নিচ থেকে গ্যাস উত্তোলনের ব্যবস্থা করেছেন। সেই গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, আদানি বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ দিত। তবে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি তৈরির জন্য তারা বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে অর্ধেক দিচ্ছে। তাদের এজেন্ট হিসেবে সারের ডিলার দেওয়া হলেও তাদের বাদ দেওয়া হয়নি। এসব ডিলার সার চোরাই পথে বিক্রি করে দেওয়ায় কিছু কিছু জেলায় কিছুটা সংকট তৈরি হয়েছিল। কঠোরভাবে সেই সংকট মোকাবিলা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, গতবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার যে পরিমাণ সার দিয়েছিল, বর্তমানে তার চেয়ে বেশি সার মজুত রয়েছে। প্রত্যেক উপজেলায় কোনো সংকট নেই। নতুন করে আগের সারের ডিলারদের পাহারা দেওয়ার জন্য প্রত্যেক ইউনিয়নে একজন করে নতুন সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে। তাদের অধীনে আরও তিনজন সাব ডিলার থাকবেন। ডিলারের পাশাপাশি সাব ডিলাররাও সার সরবরাহ করবেন। কারও ষড়যন্ত্র বা স্বার্থ হাসিলের সুযোগ যাতে না থাকে, সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

কয়লা না থাকা সত্ত্বেও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলো ছিল ‘চুরির রেন্টাল’। কোটি কোটি টাকা নেওয়ার জন্যই কুইক রেন্টাল করা হয়েছিল। এখন সেই কুইক রেন্টাল কোথায় প্রশ্ন রাখেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সন্তানরা বিদেশে গিয়ে উপার্জন করেন, সেই ডলার দিয়ে তাদের ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয়েছে। তাঁর মতে, এসব ছিল দুর্নীতি।

মন্ত্রী বলেন, আজ যখন চোখ বন্ধ করা হয়েছে, তখন ভারতীয় অনুচরেরা বাধা সৃষ্টি করতে চায়। বাধা সৃষ্টি করতে চায় বিতাড়িত পলাতক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। ফ্যাসিস্টরা দেশের এই যাত্রাকে ব্যাহত করতে চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ফারাক্কার বিরুদ্ধে চীনের সহযোগিতায় তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, বাংলাদেশকে বর্ষায় প্লাবন দিয়ে এবং খরা মৌসুমে খরা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করা হবে। সুরমা নদীর পানি আটকে সিলেটকে উজাড় করে দেওয়ার সুযোগও দেওয়া যাবে না। এ কারণে চীনের সহযোগিতায় তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে বলে জানান তিনি।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন খানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর, মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নূরতাজ আলম বাহার ও গোলাম কিবরিয়া সাঈদ।

মতবিনিময় সভায় জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে মানিকগঞ্জ জেলাশহরে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলেও অংশ নেন মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত