×

ঢাকা, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ১৮:৩৩:৫৪

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: নিয়োগ, বদলি ও পদায়নে কোটি কোটি টাকা লেনদেন এবং বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ উঠেছে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে। বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র হিসেবে রয়েছেন আসিফ।

এসব অভিযোগের পাশাপাশি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তা পদায়ন ও পদোন্নতিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগগুলো অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।

গত ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

আজ রবিবার দুদকের একটি বিশ্বস্ত সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ওই সূত্র জানায়, নতুন অভিযোগগুলো চলমান অনুসন্ধানের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে।

বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অর্থে বিলাসবহুল জীবনযাপন ও বিদেশে অর্থ বিনিয়োগের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি নিয়মিত হেলিকপ্টারে ভ্রমণ এবং পাঁচ তারকা হোটেলে অবস্থান করতেন। দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি টাকা, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি টাকা এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগও করা হয়েছে। প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার করে বিভিন্ন ব্যবসা ও সম্পদ গড়ার অভিযোগ রয়েছে আসিফের বিরুদ্ধে।

নিয়োগ ও পদায়নে কোটি কোটি টাকা ঘুষের অভিযোগ

দুদকে করা অভিযোগে বলা হয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের পর প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং সারা দেশে ৩৬ জন ডিসি পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে টেন্ডার বাণিজ্য ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকালে উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ

অভিযোগে আরও বলা হয়, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার বাণিজ্যের সঙ্গেও তিনি জড়িত ছিলেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগও করা হয়েছে।

ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। এ ছাড়া এলজিইডির সাবেক চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুর রশীদ খানকে ঘুষের মাধ্যমে নিয়োগ এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনে সিইও হিসেবে আব্দুল লতিফ খানকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে তাঁর দুই বোন ও তাঁদের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া গ্রামের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে তাঁর নিজ উপজেলা মুরাদনগরের জন্য ৪৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। প্রকল্পটির বরাদ্দ ও গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার এবং স্থানীয় প্রশাসনের ওপর প্রভাব খাটিয়ে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া তাঁর পিতা মাহমুদুল আলম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধেও ঘুষ লেনদেনের তদবির ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত