ঢাকা, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
নতুন পে-স্কেলে কত বাড়ছে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন?
নিজস্ব প্রতিবেদক: নতুন জাতীয় পে-স্কেলের আওতায় আসছেন দেশের ছয় লাখের বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী। সরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বর্তমানে যে গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন, নতুন কাঠামো কার্যকর হলে সেই গ্রেডেই সংশোধিত মূল বেতন পাবেন তারা। পাশাপাশি মূল বেতনের সঙ্গে নির্ধারিত ১৫ শতাংশ বাড়িভাড়াসহ সংশ্লিষ্ট ভাতাও বাড়বে। এতে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা।
গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বেতন বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক তুলে ধরলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা নতুন কাঠামোর আওতায় থাকবেন কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নতুন পে-স্কেলের সুবিধা পাবেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের বাজেট শাখার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ছয় লাখের বেশি। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় চার লাখ, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে পৌনে দুই লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরগুলোতে শিক্ষক-কর্মচারীদের সর্বশেষ ডেটাবেজ এবং বেতন-ভাতার হিসাব প্রস্তুত করা হচ্ছে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের মতো সব ভাতা একসঙ্গে বা একই হারে এমপিওভুক্তদের ক্ষেত্রে কার্যকর আগে কখনো হয়নি, এবারও হবে না। কোন ভাতা কী হারে দেওয়া হবে, তা পৃথক সরকারি আদেশে নির্ধারণ করা হবে।
এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন আগামীর সময়কে বলেছেন, শিক্ষকদের কাজ হচ্ছে শ্রেণিকক্ষে পড়ানো। তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দায়িত্ব সরকারের। সে কাজটি করা হচ্ছে। ক্যাবিনেটে শিক্ষকদের বিষয়ে যে আলোচনা হয়েছে, তাদের চিন্তা করার কিছু নেই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বলেছেন, ‘এটি সরকারের সর্বোচ্চ মহলের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা হতাশ হবেন না এতটুকু বলতে পারি। এটা নিয়ে কাজ চলছে।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেলের সময়ও প্রথমে এমপিওভুক্তদের বিষয়ে স্পষ্টতা ছিল না। পরে বিশেষ পরিপত্রের মাধ্যমে তাদের সমন্বয় করা হয়েছিল। এবারও গেজেট প্রকাশের পর অর্থ বিভাগ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করে আলাদা পরিপত্রের মাধ্যমে এই পে-স্কেল সম্প্রসারণ করবে। ২০১৫ সালের আলাদা পরিপত্রে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মূল পে-স্কেলের মূল বেতনের সুবিধা পান। এরপর ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শিক্ষকরা ব্যাংকের মাধ্যমে নতুন স্কেলের বর্ধিত মূল বেতন হাতে পান এবং পরে ২০১৭ সালে অন্যান্য ভাতা সমন্বয় করা হয়। এবারও একই প্রক্রিয়ায় কাজ করা হচ্ছে।
নতুন বেতন কাঠামোয় সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ প্রথম গ্রেডের বেতন ৭৮ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য আলাদা কোনো বেতন কাঠামো করা হবে না। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নির্ধারিত ২০টি গ্রেডের কাঠামোর সঙ্গেই এমপিওভুক্তদের বেতন সমন্বয় করা হবে। অর্থাৎ কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী বর্তমানে যে গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন, নতুন কাঠামো কার্যকর হলে সেই গ্রেডের সংশোধিত মূল বেতন পাবেন। বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষকরা সর্বোচ্চ অনার্স কলেজের অধ্যক্ষ (চতুর্থ গ্রেড) বেতন পান। সেই হিসাব ধরেই প্রাক্কলন করা হয়েছে।
কাদের কতটা বাড়বে
এমপিওভুক্ত ছয় লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন নতুন কাঠামোয় সমন্বয় করায় শিক্ষা খাতে সরকারের বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। সংশ্লিষ্ট হিসাব অনুযায়ী, অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা। এই অর্থের বড় অংশই যাবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতন ও ভাতা সমন্বয়ে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া গ্রেড অনুযায়ী, ডিগ্রি কলেজের একজন অধ্যক্ষ, যিনি বর্তমানে চতুর্থ গ্রেডে ৫০ হাজার টাকা মূল বেতন পাচ্ছেন, নতুন বেতন কাঠামোয় তার মূল বেতন ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে ১ লাখ টাকা। একইভাবে ষষ্ঠ গ্রেডে থাকা সহকারী অধ্যাপকদের মূল বেতন ৩৫ হাজার ৫০০ থেকে বেড়ে ৭১ হাজার টাকা হবে। কলেজ পর্যায়ের প্রভাষকদের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। নবম গ্রেডে কর্মরত একজন প্রভাষকের বর্তমান মূল বেতন ২২ হাজার থেকে ১৩০ শতাংশ বেড়ে নতুন পে-স্কেলে হবে ৫০ হাজার ৬০০ টাকা।
মাধ্যমিক স্তরে সহকারী শিক্ষক বা বিএড ডিগ্রিধারী সহকারী শিক্ষকরা বর্তমানে দশম গ্রেডে ১৬ হাজার টাকা মূল বেতন পান। নতুন কাঠামোয় ১৪২ শতাংশ বৃদ্ধিতে তা দাঁড়াবে ৩৮ হাজার ৭২০ টাকা। অন্যদিকে বিএড সনদ ছাড়া ১১তম গ্রেডে কর্মরত সহকারী শিক্ষকদের মূল বেতন বর্তমান ১২ হাজার ৫০০ থেকে ১৪২ শতাংশ বেড়ে হবে ৩০ হাজার ২৫০ টাকা। এ ছাড়া সর্বনিম্নের দিকে থাকা ২০তম গ্রেডের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী, যেমন অফিস সহায়কের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হবে। অর্থাৎ দেশের মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে থাকা ছয় লাখের বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী পদভিত্তিক মূল বেতন বৃদ্ধির সরাসরি সুবিধা পাবেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেছেন, ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেলের গেজেট হওয়ার পর নতুন পরিপত্রের মাধ্যমে শিক্ষকদের অষ্টম পে-স্কেলের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়। নবম পে-স্কেলের গেজেট হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য তথ্য-উপাত্তসহ প্রস্তুতি রয়েছে।
কেন আলাদা পরিপত্রে পে-স্কেল
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ভাতা, বাড়িভাড়া ভাতা, শিক্ষক বেতন-ভাতাসরকারের রাজস্ব খাত থেকে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৩৩-এর অধীনে পরিচালিত হন। এজন্য মন্ত্রিসভায় অনুমোদন এবং জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট জারির মাধ্যমে তাদের বেতন সরাসরি কার্যকর হয়। অন্যদিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পরিচালিত হন ‘জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা’র অধীনে। প্রশাসনিক ও আইনি কাঠামোর এই ভিন্নতার কারণে একই গেজেটে তাদের অন্তর্ভুক্ত না করে পৃথক পরিপত্র জারি করে বেতন-ভাতা সমন্বয় করা হয় বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
আরেকটি বিষয় হলো এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা মূলত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী এবং সরকারি অনুদান বা এমপিও দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তাদের নিয়োগ হয় বেসরকারি ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে এবং স্কুল ও কলেজ, মাদ্রাসা জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা দ্বারা তারা নিয়ন্ত্রিত হন। শিক্ষক-কর্মচারীরা মূল বেতনের শতভাগ অংশ পান। কিন্তু বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা সরকারি চাকরিজীবীদের মতো পান না। এর মধ্যে গত বছর এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের বাড়িভাড়া মূল বেতনের ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত হয়। এর আগে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা এক হাজার টাকা করে বাড়িভাড়া পেয়ে আসছিলেন।
শিক্ষক নেতাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে বেতন-ভাতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য রয়েছে। জাতীয় পে-স্কেলের সঙ্গে এমপিওভুক্তদের বেতন সমন্বয় করা হলেও ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে এখনো পার্থক্য রয়ে গেছে। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সময় এসব বৈষম্য দূর করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- BANZI নির্বাচন: জয়-পরাজয়ের বাইরে কমিউনিটির আমানত ও প্রত্যাশা
- ৭ কলেজের শিক্ষার্থীদের ডিসিইউতে স্থানান্তরের রোডম্যাপ প্রকাশ
- মায়ের সঙ্গে ইয়ামালের নাচের ভিডিও ভাইরাল
- প্রজ্ঞাপনের আগে পে স্কেলের বেতন তালিকা
- ব্র্যাক ব্যাংকে চাকরি, আবেদন ৩০ আগস্ট পর্যন্ত
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফল আজ
- পে স্কেল নিয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তি দিল অর্থ মন্ত্রণালয়
- তেজগাঁও কলেজে মঞ্চে উঠছে ‘পদ্মা নদীর মাঝি’
- এলএলবি প্রথম পর্বের ফরম পূরণ শুরু বৃহস্পতিবার
- এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলির আবেদন শুরু ৩০ আগস্ট
- জুলাই থেকেই কার্যকর নতুন পে স্কেল, বকেয়া পাবেন যেভাবে
- বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে দুই পদে চাকরির সুযোগ
- রংপুরের হত্যাকাণ্ডে যৌক্তিক সময়ে অপরাধীরা গ্রেপ্তার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ৩৫০০ টাকায় পর্নোগ্রাফির ‘লাইফটাইম প্যাকেজ’ দিতেন সুমাইয়া
- বাসায় ঢুকে মডেলকে কুপিয়ে হ'ত্যা