×

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

সোনারগাঁয়ে চাঁদাবাজদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ মেঘনা গ্রুপের ঠিকাদাররা

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০১ ২১:০২:৫০

সোনারগাঁয়ে চাঁদাবাজদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ মেঘনা গ্রুপের ঠিকাদাররা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন মেঘনা গ্রুপের বিভিন্ন নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টরা। তাদের অভিযোগ, মেঘনা গ্রুপের কোনো প্রকল্পের কাজে ব্যবহৃত গাড়ি জৈনপুর এলাকার সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হলে চাঁদা দিতে হয়। সম্প্রতি চাঁদা না দেওয়ায় মেঘনা গ্রুপের একটি সিমেন্টবাহী গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়ের করা হলেও মামলার আসামিরা আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে ফের চাঁদা দাবি এবং কোম্পানির লোকজনকে হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের জৈনপুর এলাকায় মাহবুবুল ইসলাম সুমনের নেতৃত্বে একটি চক্র চাঁদাবাজি করছে। তাদের দাবি, সুমনের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল বিভিন্ন কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি করে থাকে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্টদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

সম্প্রতি গত বৃহস্পতিবার দুপুরে পিরোজপুর ইউনিয়নের জৈনপুর এলাকার রাস্তা দিয়ে ২০০ বস্তা ফ্রেশ সিমেন্ট নিয়ে একটি পিকআপ মেঘনা ইকোনমিক জোনে নির্মাণাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। পিকআপটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-উ-১২-৩১১৫।

পিরোজপুর ইউনিয়নের জৈনপুর এলাকায় পৌঁছানোর পর চাঁদার দাবিতে গাড়িটির গতিরোধ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় চাঁদা না দেওয়ায় জৈনপুর গ্রামের মফিজুল ইসলামের ছেলে মাহবুবুল ইসলাম সুমনের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গাড়িটির গতিরোধ করে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দলের সদস্যদের হাতে দা, চাপাতি, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা ছিল। একপর্যায়ে গাড়ির চালকের কাছ থেকে নগদ ৫ হাজার টাকা এবং গাড়িতে থাকা সিমেন্ট লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ সময় গাড়িচালকের চিৎকার শুনে নির্মাণকাজের ঠিকাদারি প্রতিনিধি আবু সাইদ (৪৪) ও মো. সোপান (২০) ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদের ওপরও হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

থানায় মামলা, জামিনে বেরিয়ে ফের হুমকির অভিযোগ

ঘটনার পর মেঘনা পাল্প অ্যান্ড পেপার লিমিটেডের এজিএম (প্রশাসন) মো. আসাদুল ইসলাম বাদী হয়ে ওই দিন রাতে সোনারগাঁ থানায় মামলা করেন।

মামলার পর আসামিরা আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও প্রকাশ্যে কোম্পানির লোকজনকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন মেঘনা গ্রুপের সংশ্লিষ্টরা।

তাদের অভিযোগ, মেঘনা গ্রুপের কোনো গাড়ি জৈনপুর কোম্পাতি এলাকায় গেলে গাড়িপ্রতি ১০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে দাবি করা হচ্ছে।

জৈনপুর গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাহবুবুল ইসলাম সুমন এলাকায় চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত। তার নেতৃত্বে একটি দল বিভিন্ন কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সুমনের বাড়িতে মাদকের আসর বসানো এবং মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের সঙ্গেও তিনি জড়িত।

এ ছাড়া ২০০৭ সালে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানার এলাকা থেকে সোনারগাঁয়ে ফেনসিডিল নিয়ে আসার সময় সুমনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল বলে স্থানীয়রা জানান। এ ঘটনায় ২০০৭ সালের ৩০ জুলাই কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। মামলার নম্বর ৪৫। ওই মামলায় তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন বলেও স্থানীয়দের দাবি।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

মেঘনা গ্রুপের ঠিকাদারদের অভিযোগ, সরকার যখন মানুষের কর্মসংস্থান বাড়াতে ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে, তখন জৈনপুর এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের কারণে শিল্পায়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

তাদের দাবি, চাঁদাবাজির কারণে নির্মাণকাজ ব্যাহত হচ্ছে। এভাবে পরিস্থিতি চলতে থাকলে মেঘনা গ্রুপের বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিনিধিদের আরও অভিযোগ, মেঘনা গ্রুপের দায়ের করা মামলার আসামিরা স্থানীয় পুলিশ পরিদর্শক, একাধিক উপপরিদর্শক ও পুলিশ সদস্যদেরও হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন।

নির্মাণকাজের ঠিকাদারি প্রতিনিধি আবু সাইদ বলেন, মাদকসেবী ও চাঁদাবাজ সুমনের নেতৃত্বে চাঁদার দাবিতে কোম্পানির সিমেন্টবাহী গাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। তার দাবি, এর আগে কয়েকবার ওই চক্রকে কোম্পানির পক্ষ থেকে চাঁদা দেওয়া হয়েছিল। এরপরও নতুন করে চাঁদার দাবিতে গাড়ি আটকে লুটপাট করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হলেও অব্যাহত হুমকির কারণে মেঘনা গ্রুপের নির্মাণাধীন প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

আরেক ঠিকাদারি প্রতিনিধি বলেন, শুভ ও সুমনের নেতৃত্বাধীন চক্রকে কোম্পানির পক্ষ থেকে কয়েক দফায় চাঁদা দেওয়া হয়েছে। এরপরও তারা আবার মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করছে। চাঁদাবাজির মামলায় জামিনে বেরিয়ে এসে তারা ফের চাঁদা দাবি করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল বারিক বলেন, চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জামিনে বের হয়ে কেউ হুমকি-ধমকি দেওয়ার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতির অবসান হবে বলে আশা করছেন মেঘনা গ্রুপের ঠিকাদার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত