ঢাকা, শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে ফের আলোচনা, অনুকূল পরিবেশ চায় ঢাকা
নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এখনো সফরের নির্দিষ্ট তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট নয়াদিল্লি সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। এদিকে ঢাকা জানিয়েছে, সফরের আগে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের ভিত্তিতে উপযুক্ত কূটনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্যইন্ডিয়ানএক্সপ্রেস ও আউটলুক-এর প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য দিল্লি সফরের কথা উঠে এসেছে। যদিও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন, এ সফর নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে বলার মতো কোনো মন্তব্য নেই।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসকে বলেন, তাড়াহুড়ো করে নয়; পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস, সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, কূটনৈতিক আলোচনা এবং মর্যাদাপূর্ণ আমন্ত্রণের ভিত্তিতে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলেই তারেক রহমানের ভারত সফর হতে পারে।
তিনি জানান, আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আগে সফর নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে নানা আলোচনা থাকলেও জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় ঢাকা এখনই কোনো তাড়াহুড়ো করছে না। তবে দুই দেশের ঐকমত্যের ভিত্তিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ইতিবাচক অবস্থান নিতে পারে।
‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরির বিষয়ে বিস্তারিত না জানালেও ঢাকার পক্ষ থেকে শেখ হাসিনা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর দাবিও রয়েছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে।
হুমায়ুন কবিরের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের সফর অনেকাংশে ভারতের বর্তমান নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গি ও দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নির্ভর করছে। বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বাস্তবতা এবং এতে দেড় হাজারের বেশি মানুষের আত্মত্যাগের বিষয়টি ভারতকে যথাযথভাবে অনুধাবন করতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য প্রথম ভারত সফর নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। ক্ষমতায় আসার পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার তাকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানায়। পাশাপাশি সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
তবে ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এখনো স্পষ্ট ঘোষণা আসেনি। আগস্টের প্রথম সপ্তাহে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের বক্তব্যে ব্রিকসের চেয়ে দ্বিপক্ষীয় সফরকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এর আগে ১৪ আগস্ট ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সূত্রগুলো সম্ভাব্য সফরের তারিখ ২২ ও ২৩ আগস্ট হতে পারে বলে জানিয়েছিল।
সফরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তখন আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি। এর মধ্যেই ভারতীয় গণমাধ্যমে সফর নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ঢাকার সরকারি সূত্রগুলোও জানিয়েছিল, নীরবে হলেও সফরের প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। এমনকি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারত সফরে যেতে পারেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে আলোচনা ছিল।
তবে গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে শেখ হাসিনা অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান বিএনপি সরকারের সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণাও দেন তিনি। তাকে এমন বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় ঢাকা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগে অনুকূল পরিবেশ তৈরি এবং শেখ হাসিনা ও শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার দুই আসামিকে ফেরত দেওয়ার বিষয়টি সামনে আনে ঢাকা। ভারত সফরের বিষয়ে দিল্লির পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো ঢাকার সম্মতি মেলেনি। ফলে সফরটি নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন, শুধু শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক আটকে থাকা উচিত নয়। তার মতে, দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত, পানি বণ্টন, অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি ও বাণিজ্য বৈষম্যসহ আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও দরকষাকষির সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে না গেলে এসব কোনো ইস্যুরই সমাধান হবে না। ফলে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে বৃহত্তর স্বার্থে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে আলোচনার আওতায় আনা প্রয়োজন।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণের নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত
- পর্নোগ্রাফি মামলায় ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া গ্রেফতার
- লন্ডনে ঢাবি অ্যালামনাই ইউকের কোচ ট্রিপ অনুষ্ঠিত
- বসুন্ধরায় অভিনেত্রী রিধিকা রিধির মরদেহ উদ্ধার
- বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট কাটাতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে: অর্থমন্ত্রী
- প্রথম দিনেই বাজিমাত জিতের নতুন সিনেমার
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে মাইগ্রেশনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ জয়ী
- স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষক নিয়োগ, আবেদন ১৮ আগস্ট পর্যন্ত
- এসএসসি পাস শিক্ষার্থীদের ২ বছরের বৃত্তি দেবে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক
- আপনার মোবাইল থেকে ছবিসহ তথ্য চুরি করছে যেসব অ্যাপ
- নবম পে স্কেল নিয়ে যা জানা গেল
- ফেসবুক পোস্ট ঘিরে ঢাবির হল প্রভোস্টের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগ
- নতুন পে-স্কেলে বড় পরিবর্তন, যেভাবে বাস্তবায়ন হবে বেতন-ভাতা
- ঢাবি অ্যালামনাইয়ের সাবেক মহাসচিব রঞ্জন কর্মকারের প্রতি শ্রদ্ধা
- ঢাকার ১১০ কিলোমিটার নৌপথে চলবে বৈদ্যুতিক ওয়াটার বাস